তৃণমূল ভাঙার ডাক! মমতার ছবি ছাড়াই বৈঠকে অভিষেককে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত বিদ্রোহীদের

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দল থেকে সাসপেন্ড করার ঘোষণা করল তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী। রবিবার নিউটাউনের একটি হোটেলে প্রাক্তন কাউন্সিলর ও বিদ্রোহী নেতাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কেন এই পরিস্থিতি? রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। গত কয়েকদিন ধরেই সংসদীয় দল ও পরিষদীয় দলের বড় অংশ এই বিদ্রোহে শামিল হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বড় বৈঠক ডাকা হয়।

বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

  • বিদ্রোহের আঁচ: কলকাতা পুরসভার ৫০ জনেরও বেশি প্রাক্তন কাউন্সিলর এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের মতো জেলাগুলোর প্রাক্তন কাউন্সিলররাও যোগ দিয়েছেন।

  • নেতৃত্ব: এই বিদ্রোহী বৈঠকে অরূপ রায়কে সভাপতি করা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, তারক সিংহ, অসীম বসু, জুঁই বিশ্বাস এবং প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর মতো পরিচিত নেতারা।

  • প্রতীকী বার্তা: লক্ষণীয় বিষয় হলো, আয়োজিত এই বৈঠকে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক থাকলেও, মঞ্চে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনো ছবি রাখা হয়নি, যা নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দলে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা আজ চূড়ান্ত রূপ নিল। বিদ্রোহী শিবিরের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত দলের ভবিষ্যতের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। যদিও মূল তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ যে দ্রুত পাল্টাচ্ছে, তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট।