কী এই ‘পিকল জুস’? যার জাদুতে মাঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন অসুস্থ রেফারি, দেখুন ভিডিও

ফুটবল মানেই উত্তেজনা, গোল এবং অসামান্য ক্রীড়াশৈলী। কিন্তু ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর আসরে আমেরিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ঘটনা। মাঠের মধ্যে পেশিতে টান লেগে লুটিয়ে পড়া রেফারিকে চাঙ্গা করে তুলল এক গ্লাস ‘পিকল জুস’। রেফারির এই দ্রুত সেরে ওঠার দৃশ্য দেখে অবাক ক্রীড়াপ্রেমীরা।

মাঠের নাটকীয় মুহূর্ত সিয়াটলে আমেরিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ চলাকালীন তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৯০ মিনিটের ক্লান্তিকর ম্যাচ এবং ইনজুরি টাইমের চাপ—সব মিলিয়ে জার্মান রেফারি ফেলিক্স জ়ায়েরের শরীরের ওপর প্রচণ্ড ধকল যায়। হঠাৎই তিনি পায়ের পেশিতে তীব্র টান অনুভব করায় মাঠের ওপর শুয়ে পড়েন। দ্রুত দুই দলের ফুটবলাররা ছুটে আসেন তাকে সাহায্য করতে। ঠিক সেই সময় ত্রাতা হয়ে আবির্ভাব ঘটে চতুর্থ রেফারি কেটি গার্সিয়ার। তিনি জ়ায়েরের হাতে তুলে দেন এক কার্টন ‘পিকল জুস’। পান করার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ম্যাজিকের মতো চাঙ্গা হয়ে ওঠেন রেফারি এবং পুনরায় ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব নেন।

পিকল জুস আসলে কী? অনেকেই ভাবছেন

এটি কি সাধারণ আচার? আসলে এটি হলো আচার তৈরির জন্য ব্যবহৃত ‘ব্রাইন’ বা নুন-জল। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং অত্যাবশ্যকীয় ইলেকট্রোলাইট। শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর জল ও খনিজ বেরিয়ে গেলে পেশিতে টান বা ক্র্যাম্প হওয়া স্বাভাবিক। পিকল জুসে থাকা ইলেকট্রোলাইট পেশির এই টান দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। অনেক ক্ষেত্রে পান করার এক মিনিটের মধ্যেই এটি পেশিকে স্বাভাবিক করতে সক্ষম।

ক্রীড়াবিদদের নতুন অস্ত্র বর্তমানে পেশাদার ক্রীড়াবিদদের কাছে এই পিকল জুস অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। শরীরচর্চা বা দীর্ঘ সময়ের শারীরিক পরিশ্রমের পর ক্র্যাম্পের দ্রুত সমাধান হিসেবে অনেক দলেই এখন এই নুন-জলের মিশ্রণটি বাধ্যতামূলকভাবে রাখা হচ্ছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে রেফারির এই পিকল জুস পান করার দৃশ্যটি এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অনেকেই একে ‘স্পোর্টস সায়েন্স’-এর এক অদ্ভুত ও কার্যকরী কৌশল হিসেবে দেখছেন।