‘প্রয়োজন হলে ফ্লোর টেস্ট হোক’, আদালতের জয়ের পরই তৃণমূলকে বড় চ্যালেঞ্জ ঋতব্রতর!

বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের আগেই রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় অস্বস্তিতে শাসকদল তৃণমূল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূলের করা মামলা কার্যত ধোপে টিকল না কলকাতা হাইকোর্টে। আদালতের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পরই তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে তীব্র বাক্যবাণে আক্রমণ শানালেন ঋতব্রত।

কী বললেন বিরোধী দলনেতা? আদালতের রায়ের পর এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি আবারও বলছি, প্রয়োজন হলে ফ্লোর টেস্ট করা হোক। আমাদের দিকে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য রয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিরোধী দলনেতার আসনটি বড় সম্মানের। জ্যোতি বসুর মতো ব্যক্তিত্ব এই পদে ছিলেন। আমি সেই বড় চটিতে পা গলিয়েছি।”

তৃণমূলের সমালোচনার কড়া জবাব দিয়ে ঋতব্রত বলেন, “যাঁরা আমার বিরোধী দলনেতা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁদের হাতে পেন্সিল ধরিয়ে দেব, আর জিরো লেখা একটি বই দেব।” অর্থাৎ, তৃণমূলের দাবিকে তিনি রীতিমতো ‘শূন্য’ বলেই বিদ্রূপ করেছেন।

হাইকোর্টের নির্দেশ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, বিরোধী ব্লকের বিধায়কদের নিয়ে করা মামলায় তৃণমূলের আবেদন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে না। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়িত্ব পালনে আপাতত কোনো হস্তক্ষেপ করা হবে না। এই রায়ের ফলে বিধানসভায় ঋতব্রতর অবস্থান আরও শক্তিশালী হলো।

রাজনৈতিক মহলের নজর বিরোধী দলনেতার আসন নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধানসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শাসকদলকে কীভাবে মোকাবিলা করেন এবং ফ্লোর টেস্টের দাবি কতটা জোরালো হয়, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।