বিধানসভায় বেনজির ছবি! মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক সেরে ঋতব্রতকে তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের

রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনেই এক অভাবনীয় রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকল বাংলা। বিধানসভার অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসলেন কুণাল ঘোষ-সহ মমতা-পন্থী পাঁচ বিধায়ক। এই বৈঠক একদিকে যেমন রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই বৈঠক শেষে কুণাল ঘোষের মন্তব্য জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

বিধানসভার অন্দরে দীর্ঘক্ষণ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন এই বিধায়করা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসার সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়নি। আমরা চাটুকারিতাকে মানি না। ব্যাকডোর দিয়ে ছুরি মারা বিরোধী দলনেতাকেও আমরা সমর্থন করি না। মুখ্যমন্ত্রী আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত সৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন এবং আমাদের আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”

এদিনের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিধানসভায় আলাদা করে বক্তব্য রাখার সময় চেয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “আমরা ঋতব্রতর মতো চাটুকারের কাছে সময় চাইব না। আমরা বিরোধী দল হিসেবে বিধানসভায় আলাদা সময় পাব। নওশাদ সিদ্দিকী, সিপিএম বা কংগ্রেসের বিধায়করা যেমন সময় পান, আমরাও পাব। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের ছাতার তলাতেই রয়েছি এবং গঠনমূলক বিরোধিতা করব। বর্তমান সরকারকে একটু সময় দেওয়া উচিত।”

পাশাপাশি, হকার ইস্যু নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানোর বিষয়টিও উঠে আসে কুণালের বক্তব্যে। বেলেঘাটার বিধায়ক জানান, “হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্য সরকার আর বুলডোজার চালাবে না, মুখ্যমন্ত্রী আমাদের এটুকু আশ্বস্ত করেছেন।”

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, “আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। অনেকে হয়তো চাপের মুখে অন্য শিবিরে গেছেন, কিন্তু আমরা দিল্লির গ্যারেজে দাঁড়িয়ে থাকা লোক নই। উল্টো শিবির থেকে আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের আলোচনা অত্যন্ত সফল হয়েছে। তিনি আমাদের চা-বিস্কুট খাইয়েছেন।” বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করে কুণাল আরও যোগ করেন, “তিনি একটা থানাতেও যাননি, আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াননি। হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাস্তায় নামেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গরিবের রাজনীতি করেন, আমরা তাঁর আদর্শেই চলব।”

বৈঠক শেষে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ও পিএসওদের ফেরানোর বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, কুণালের এই বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং নতুন মেরুকরণের জল্পনাকে স্পষ্ট করে দিয়েছে। এই পাঁচ বিধায়কের অবস্থান পরবর্তী বিধানসভা অধিবেশনে নতুন কোন সমীকরণ তৈরি করে, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।