আদালত ফাঁসির নির্দেশ দিলেও কি শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাবে মুসকান? ‘ব্লু ড্রাম’ হত্যাকাণ্ডে দানা বাঁধছে বিরাট সংশয়!

প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করে স্বামীকে খুন করে নীল ড্রামে দেহ লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ‘ব্লু ড্রাম’ হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত মুসকান রাস্তোগী ও তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লাকে মৃত্যুদণ্ড শ শুনিয়েছে আদালত। দেশজুড়ে আলোড়ন ফেলা এই রায়ের পর আইনি মহলে যেমন অপরাধের নৃশংসতা নিয়ে আলোচনা চলছে, তেমনই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা— নিম্ন আদালতের এই রায়ের পরেই কি ফাঁসি কার্যকর হবে? নাকি আইনি জটিলতা ও নিয়মের মারপ্যাচে থেকে যাবে সংশয়?

ভারতের বিচারব্যবস্থায় নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ (রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার) নীতি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়ে থাকে। আদালতের বিচারক এই মামলার ভয়ংকর চরিত্র অনুধাবন করেই চরম সাজা ঘোষণা করেছেন। তবে বিশেষ করে মুসকান দুই সন্তানের জননী হওয়া সত্ত্বেও এবং ভারতীয় আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ জটিলতার কারণে এই রায় কার্যকর হওয়া নিয়ে বহু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

পরিসংখ্যান বলছে, স্বাধীন ভারতে মহিলাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কার্যকর হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ১৯৪৭ সালের পর থেকে দেশে মাত্র এক জন মহিলার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার তথ্য রয়েছে, যিনি ১৯৫৫ সালে দণ্ডিত হয়েছিলেন রতন বাই জৈন। ফলে নিম্ন আদালতের এই মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ এবং আইনি লড়াইয়ের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত এই মামলার পরিণতি কী হয়, এখন সেটাই দেখার।