পাক-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ইমতিয়াজের ছবিতে বিতর্ক! নেটপাড়ার ঠাট্টায় এ আর রহমানের অদ্ভুত প্রতিক্রিয়া

ইমতিয়াজ আলির সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ বক্স অফিসে শুধু সাফল্যই অর্জন করছে না, বরং দর্শকদের আবেগকেও স্পর্শ করছে। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত এই ধ্রুপদী প্রেমের গল্পটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এই সাফল্যের আবহের মধ্যেই ছবিটিকে ‘দেশবিরোধী’ তকমা দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আর এই বিতর্কের আঁচ সরাসরি গিয়ে লাগল অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমানের গায়ে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি ব্যঙ্গাত্মক (স্যাটায়ার) সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে লিখেছিলেন, “এটি কি দেশবিরোধী ছবি? কারণ, এই সিনেমায় পাকিস্তানকে কোনো জঙ্গি বা সিক্রেট এজেন্ট ছাড়াই দেখানোর সাহস দেখানো হয়েছে!” সাধারণত দেশভাগের প্রেক্ষাপটে তৈরি ছবিতে পাকিস্তানি চরিত্রদের নেতিবাচক হিসেবে চিত্রায়নের যে প্রথা চলে আসছে, সেই স্টিরিওটাইপকে ভাঙার বিষয়টিই এখানে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই অদ্ভুত ও সূক্ষ্ম রসিকতাটি নজর এড়ায়নি এ আর রহমানের। তিনি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে সেই পোস্টটি শেয়ার করে একটি হাসির ইমোজি জুড়ে দিয়েছেন। এই প্রতিক্রিয়াটি নেটিজেনদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
পোস্টটিতে আরও উল্লেখ ছিল, একজন দর্শক প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো এটি অন্য দশটা সিনেমার মতোই কোনো ভারতীয় স্পাই বা গোয়েন্দার পাকিস্তানের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার গল্প। কিন্তু সিনেমার শেষে ‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’ সংলাপটি এবং ছবিতে কোনো জঙ্গি বা গুপ্তচরের ট্র্যাক না থাকায় তিনি বিস্মিত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তিনি স্বীকার করেছেন, পর্দায় পাকিস্তানিদেরও রক্তমাংসের মানুষ হিসেবে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে এই চলচ্চিত্র।
‘ম্যায় ওয়াপাস আউঙ্গা’-তে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ, শর্বরী এবং বেদাং রায়না। বর্ষীয়ান অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের অল্প বয়সের ভূমিকায় বেদাংয়ের অভিনয় নজর কেড়েছে। এটি ‘অমর সিং চমকিলা’-র পর পরিচালক ইমতিয়াজ আলি এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জের দ্বিতীয় যৌথ কাজ। এছাড়া, দীর্ঘ সময় পর ইমতিয়াজ আলি, এ আর রহমান এবং গীতিকার ইরশাদ কামিলের সেই কালজয়ী ত্রয়ী আবারও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। উল্লেখ্য, ‘রকস্টার’, ‘তামাশা’ ও ‘হাইওয়ে’-র মতো সিনেমার পর এবারও তাঁদের জুটির জাদু অব্যর্থ।
বক্স অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, সিনেমাটির শুরুটা খুব একটা আশানুরূপ ছিল না। প্রথম দিনে মাত্র ১.১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিল ছবিটি। কিন্তু দর্শকদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং মাউথ পাবলিসিটির কারণে সোমবার সেই আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১.২৫ কোটি টাকায়। ফিল্ম সমালোচকদের মতে, খুব শীঘ্রই সিনেমাটি ভারতের বাজারে ১০ কোটি টাকার ক্লাবে প্রবেশ করতে চলেছে। ইমতিয়াজের এই প্রেমের আখ্যান এখন দর্শকদের হৃদয়ে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে।