মমতার দেওয়া বিয়ের উপহার ফেরত দিতে কালীঘাটে বৈদ্যনাথ! কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত কাকলী-পুত্রের?

রাজ্যের রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত সমীকরণে ফের এক চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূত্রপাত করলেন কাকলী ঘোষ দস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিয়ের উপহার ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে তিনি বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি কলকাতার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে নিজের বিয়ের সময় পাওয়া সোনা ও অন্যান্য সামগ্রী ফেরত দিতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তারক্ষীরা এবং অফিসের কর্মীরা সেই উপহারের বাক্স এবং তাঁর লেখা চিঠি গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন।
হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত?
বৈদ্যনাথের এই পদক্ষেপকে নিছক উপহার ফেরানোর ঘটনা হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, এর পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তিক্ততা এবং ব্যক্তিগত মনোমালিন্য। তাঁর মা, কাকলী ঘোষ দস্তিদার সাম্প্রতিককালে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় হয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বৈদ্যনাথের এই আচরণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বৈদ্যনাথ যদিও বারবার নিজেকে ‘অরাজনৈতিক’ ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
‘সম্মানহীন উপহারের প্রয়োজন নেই’
উপহার ফেরানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বৈদ্যনাথ অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাধিক প্রবীণ নেতা-নেত্রী—যেমন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সোনালী গুহ, মহুয়া মৈত্র এবং সৌগত রায় তাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে নানা কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। এই পরিস্থিতির উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে আশীর্বাদের পেছনে আর কোনো ভালোবাসা, স্নেহ বা আন্তরিকতা অবশিষ্ট থাকে না, সেই উপহার বয়ে বেড়ানোর কোনো অর্থ নেই। যেখানে সৌজন্য হারিয়ে গেছে, সেখানে উপহারের মূল্যও শেষ।” তাঁর মতে, যে সম্পর্ক বা আশীর্বাদের কোনো সম্মান নেই, তা গ্রহণ করা অর্থহীন।
নিরাপত্তার দেওয়াল ও বিভ্রান্তি
বৈদ্যনাথ জানান, বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো ভুল বোঝাবুঝি না হয়, সেই কারণেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে একটি বিস্তারিত চিঠি লিখেছিলেন। উপহার এবং ওই চিঠি নিয়ে তিনি কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দরজায় পৌঁছালেও, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। এই প্রত্যাখ্যানের ঘটনাটি বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনেকের মতে, পালাবদলের এই মরসুমে বৈদ্যনাথের এই ‘উপহার ফেরত’ দেওয়ার ঘটনাটি এক প্রতীকী প্রতিবাদ। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ মনে করছে, এটি তাঁদের নেতৃত্বের প্রতি অবমাননা। অন্যদিকে, নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংঘাতের চরম বহিঃপ্রকাশ। এর আগে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি নোটিস পাঠানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং দলের নেতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। বুধবারের এই ঘটনা বুঝিয়ে দিল, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক মতাদর্শের সংঘর্ষ কোন জায়গায় পৌঁছেছে। এই বিতর্কিত ইস্যুটি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।