স্পিকারের সিদ্ধান্তে সিলমোহর! বিরোধী দলনেতা নিয়োগ নিয়ে কী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নিয়োগ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জল্পনার অবসান ঘটল। বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, তাতে বড়সড় আইনি স্বস্তি পেলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের এই বিধায়ক। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল, স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের ওপর আপাতত কোনো স্থগিতাদেশ জারি করা হবে না। ফলে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়োগ আপাতত বহাল থাকছে।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছিল। বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। মামলাকারীর মূল আবেদন ছিল, স্পিকারের এই সিদ্ধান্তটি ত্রুটিপূর্ণ এবং তা খারিজ করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হোক। তবে দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, স্পিকারের এই সাংবিধানিক সিদ্ধান্তের ওপর হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো যথেষ্ট আইনগত ভিত্তি বা যুক্তি মামলাকারীর পক্ষ থেকে উপস্থাপিত হয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট, স্পিকার তাঁর নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতার বলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা এই মুহূর্তে চ্যালেঞ্জ করার মতো নয়।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দলের অন্দরেই অন্য একটি অংশ তাতে তীব্র আপত্তি জানায়। এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনসহ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই পদের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেন। এরপরই স্পিকার ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন।

আদালতে স্পিকারের আইনজীবীর পক্ষ থেকে বিস্ফোরক দাবি করা হয়, কালীঘাট থেকে পাঠানো যে চিঠিতে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল, তাতে বিধায়ক দলের বৈঠকের কার্যবিবরণী (মিনিটস) ছিল না। উপরন্তু, স্পিকারের কাছে বেশ কয়েকজন বিধায়ক অভিযোগ করেন যে, ওই প্রস্তাবে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে। অন্যদিকে, সন্দীপন সাহার চিঠিতে বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার স্পষ্ট প্রমাণ থাকায় স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেই মান্যতা দিয়েছিলেন।

যদিও এর আগের শুনানিতে স্পিকারের ভূমিকা নিয়ে আদালত কিছু পর্যবেক্ষণ করেছিল, কিন্তু এদিনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে বাজেট অধিবেশনের আগে ঋতব্রত শিবির এক বড় স্বস্তি পেল। আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেছে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে আর কোনো আইনি বাধা রইল না। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই পর্যবেক্ষণ স্পিকারের ক্ষমতার পরিধিকে আরও একবার সুনিশ্চিত করল। বিধানসভার অন্দরে যখন রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত জটিল, তখন এই রায় নিশ্চিতভাবেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এক বড় সাফল্য।