‘উপহারের মর্যাদা নষ্ট’, মমতার দেওয়া সোনার হার ফেরাতে পারলেন না কাকলি-পুত্র

তৃণমূলের অন্দরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবার ব্যক্তিগত স্তরে পৌঁছে এক নাটকীয় আকার ধারণ করল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিয়ের উপহার ফেরত দিতে গিয়ে কালীঘাটে চরম অস্বস্তির মুখে পড়লেন বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ছেলে তথা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার। উপহার গ্রহণ তো দূর, তাঁকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই দেওয়া হলো না।
ঠিক কী ঘটেছিল? রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থেকেও সম্প্রতি তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন বৈদ্যনাথ। অভিযোগ, লাগাতার তাঁর ‘চরিত্রহনন’ করা হচ্ছে। এই মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরেই বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। উদ্দেশ্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া বিয়ের একটি সোনার হার এবং একটি ব্যক্তিগত চিঠি ফিরিয়ে দেওয়া। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা সেই উপহার গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং তাঁকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতিও দেননি।
মন্দিরে দান করার সিদ্ধান্ত: উপহার ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে হতাশ বৈদ্যনাথ জানিয়েছেন, “যে উপহারের গুরুত্ব রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ির কারণে নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তা আর নিজের কাছে রাখা সম্ভব নয়। আমি এটি কালীঘাট মন্দিরে মা কালীর চরণে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, ছোটবেলা থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল, সেই উপহার ছিল আশীর্বাদস্বরূপ। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে এই উপহারের গুরুত্ব আর অবশিষ্ট নেই।
তৃণমূলের আইটি সেলের প্রতি বার্তা: রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে যেভাবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়কে টেনে আনা হচ্ছে, তাতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাকলি-পুত্র। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমি তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেল ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করছি, আমাদের পরিবারের এই ব্যক্তিগত বিপর্যয় নিয়ে দয়া করে কেউ তামাশা করবেন না।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পরিবারের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সম্পর্কের টানাপোড়েন তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল। একদিকে যখন দলের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে, তখন এই ধরনের আবেগপ্রবণ নাটক যে শাসকদলের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ, তা বলাই বাহুল্য।