হরমুজ উত্তাপ: ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা মোদীর

জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের আবহে বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা, বাণিজ্য চুক্তি এবং বিশেষত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক কালে ওমানের উপকূলে মার্কিন সামরিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মোদীর এই উদ্বেগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ওয়াশিংটনে শেষ সাক্ষাতের পর থেকে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি হয়েছে এবং আমরা যৌথ লক্ষ্যমাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ফেরাতে ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মোদী হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নৌচলাচলের স্বাধীনতা অপরিহার্য। মোদী বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় নাবিক সামুদ্রিক বাণিজ্য রক্ষা করছেন। তাঁদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে শান্তি চুক্তি প্রস্তাবিত, আমি নিশ্চিত যে সেখানে নাবিকদের সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।”
মোদীর এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, “নাবিকদের বিষয়টি আমি শুনেছি। এটি একটি কঠিন পেশা, তবে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। ওই মানুষগুলো মহান।” ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, “যতদিন আমি হোয়াইট হাউসে আছি, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রকৃত বন্ধু হিসেবে পাশে থাকবে।” পশ্চিম এশিয়ায় ভারতের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “নরেন্দ্র মোদী যতক্ষণ নেতা থাকবেন, ভারত প্রতিটি ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করবে।”
এই বৈঠকটি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। বাণিজ্যিক জটিলতা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দাঁড়িয়ে দুই রাষ্ট্রনেতার এই আলোচনা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মৈত্রীকে আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।