অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকা কি আর মিলবে না? লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর নাম বাতিলের আশঙ্কায় তোলপাড়!

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোর মধ্যে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। সেই ধারার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের, যেখানে রাজ্যের মহিলারা মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১ জুন থেকে এই ভাতা চালু হওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক অনিশ্চয়তা। শোনা যাচ্ছে, জুলাই মাসে বহু আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা পৌঁছাবে না এবং লক্ষ লক্ষ নাম বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জনকল্যাণমূলক ক্যাম্প বসেছে, যেখানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বিলি করা হচ্ছে। আবেদনকারীরা আশা করেছিলেন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিলেই ১ জুলাই থেকে তাঁরা এই ভাতার টাকা পাবেন। খোদ মুখ্যমন্ত্রীও এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, জুন মাসের জন্য আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে জুলাই মাস থেকে ভাতা দেওয়া হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, শুধুমাত্র ফর্ম জমা দিলেই ভাতার টাকা মিলবে না। সরকারি আধিকারিকরা প্রতিটি আবেদনপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রুটিনি করবেন। ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় কোনো তথ্যে গরমিল পাওয়া গেলে বা নথি অসম্পূর্ণ থাকলে সেই আবেদন তৎক্ষণাৎ বাতিল করে দেওয়া হবে। ভেরিফিকেশনের এই কঠিন ধাপ পেরোলেই কেবল অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে।

এই অবস্থায় আবেদনকারী মহিলাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। আবেদন করার আগে যোগ্যতার মাপকাঠিগুলো ভালো করে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। জমা দেওয়া সব তথ্য যেন নির্ভুল হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ডের লিঙ্ক নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আধারের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত না থাকলে সরাসরি ব্যাংক ট্রান্সফার (DBT) প্রক্রিয়ায় টাকা পাওয়া সম্ভব নয়। আপনার অ্যাকাউন্টে যদি আধার লিঙ্ক না থাকে, তবে অবিলম্বে নিকটস্থ ব্যাংকে গিয়ে তা করিয়ে নিন। অন্যথায়, সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আপনার নাম বাতিল হওয়ার বড় সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মতো নতুন প্রকল্পে ভাতার সুবিধা পেতে হলে সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলাই এখন সাধারণ মানুষের জন্য একমাত্র পথ।