রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেও যে অস্বস্তি বাড়ছে, তা আবারও স্পষ্ট হলো। এবার তৃণমূলের স্থায়ী কার্যালয়ের আধুনিকীকরণের সময় যে ভবনটি সাময়িক আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, সেই অফিসটিই খালি করে দিতে হলো দলকে।
অভিযোগ, দলের একসময়ের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু সাহার মালিকানাধীন এই ভবন থেকে তৃণমূলকে সরে যেতে বলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, বাইপাস ধাবার পিছনের এই বহুতল ভবনটির দুটি তলা মঙ্গলবার রাতেই পুরোপুরি খালি করে দেওয়া হয়েছে। বাকি অংশ থেকেও দ্রুত সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
অফিস ছাড়ার নেপথ্যে কি দূরত্ব? রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, ২০২১ সালে তপসিয়ার পুরনো তৃণমূল ভবন আধুনিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এই মেট্রোপলিটনের ভবনটিকেই অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনটি থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম চলত। অথচ সেই ভবনের মালিক মন্টু সাহা, যিনি একসময় তৃণমূলের বিভিন্ন সভা ও অনুষ্ঠানের নেপথ্য কারিগর হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁর সঙ্গেই দলের দূরত্ব এখন চরমে।
গত মে মাসেই তিনি অফিস খালি করার নোটিস দিয়েছিলেন। দু’মাস সময় দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই যেভাবে ভবন খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা শাসকদলের জন্য বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
মৌনব্রত পালন করছেন মন্টু সাহা হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন মন্টু সাহা? দলের সঙ্গে কি কোনো বিশেষ সংঘাত তৈরি হয়েছে? এই বিষয়ে মনোতোষ সাহা এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। তাঁর এই নীরবতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। একদিকে একের পর এক কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত, অন্যদিকে দলের ঘনিষ্ঠদের এই দূরত্ব—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে তৃণমূলের এই নতুন অস্বস্তি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।





