মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দেড় মাসের মাথায় তৃতীয়বার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে পাহাড়ের উন্নয়নে বড়সড় চমক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিট গ্রাউন্ডের বিশাল জনসভা থেকে তিনি কেবল উন্নয়নের বার্তা দেওয়াই নয়, বরং জিটিএ-র দুর্নীতি ও আগের সরকারের ‘সিন্ডিকেটরাজ’-এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক, সাংসদ রাজু বিস্তা-সহ পাহাড়ের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্ব। বিমল গুরুং থেকে মন ঘিসিং—পাহাড়ের রাজনৈতিক ঐক্যের সাক্ষী থাকল এই সভা। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি এখানে ঘুরতে আসেননি, এসেছেন পাহাড়ের ভোল বদলাতে। আগের সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “পাহাড়ের মানুষের টাকা লুঠ করা হয়েছে। জিটিএ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না, তাদের জেলে যেতেই হবে।”
উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পাহাড়ের ২৮ লক্ষ মহিলাকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র আওতায় মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে কালিম্পংয়ে মেডিক্যাল কলেজ, কার্শিয়াং হাসপাতালের সংস্কার এবং সরকারি স্কুলে স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া, বন্ধ থাকা ২৫টি চা বাগানের জন্য ৩৩৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প এবং গোর্খা আন্দোলনের সময়কার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “ভয়ের সংস্কৃতি শেষ, এবার পাহাড় দেখবে ভরসার সরকার।”





