আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পথে, কিন্তু এই কূটনৈতিক মোড় ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে। ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে ইজরায়েল এই চুক্তির শর্তাবলী সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন যে, চুক্তির বিষয়ে ইজরায়েলকে বাইরে রেখেই আলোচনা চালিয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও নেতানিয়াহু একে ইজরায়েলের সামরিক সাফল্য বলে দাবি করছেন, তবে দেশের অভ্যন্তরেই তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
চুক্তির ১৪টি শর্তের মধ্যে ইরান ও মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহার, আর্থিক প্যাকেজ এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ প্রধান। চুক্তিতে বলা হয়েছে, আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং ইরান পরমাণু বোমা না বানানোর লিখিত আশ্বাস দেবে। কিন্তু ইজরায়েলের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্রমবর্ধমান শক্তিকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ইজরায়েল তাদের সুরক্ষা নীতিতে কোনো আপস করবে না। ইয়োরুশালেম সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেন অ্যাফেয়ার্সের সাগিভ স্টেইনবার্গের মতে, প্রয়োজনে আমেরিকার সম্মতি ছাড়াই ইজরায়েল ইরান বা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।
ভারতের অর্থনীতির জন্য এই শান্তি প্রক্রিয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। ভারতের মোট জ্বালানি চাহিদার ৫৫% তেল ও ৯০% এলপিজি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। শান্তি ফিরলে এই সরবরাহ পথ মসৃণ হবে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাসকারী ৯০ লক্ষ ভারতীয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ সুরক্ষিত হবে। তবে, লেবানন ও সিরিয়ায় ইজরায়েলি সেনার উপস্থিতি এবং ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা এই চুক্তির বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে।





