আম ভেবে ব্যাগবন্দি করতে গিয়েই বিপদ! মালদায় বোমা ফেটে রক্তাক্ত ৩ শিশু, কাঠগড়ায় দুষ্কৃতীরা

নিছক কৌতুহল মেটাতে গিয়েই বিপত্তি। আম কুড়োতে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের জেরে রক্তাক্ত হলো তিনটি শিশুর শৈশব। মালদার ইংরেজবাজার থানার কাজীগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বাহান্ন বিঘা এলাকায় ঘটা এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জখম তিন শিশুর মধ্যে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। বর্তমানে সে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামেরই কাছে একটি আম বাগানে খেলতে গিয়েছিল ওই তিন শিশু। আম কুড়োনোর নেশায় তারা যখন ব্যস্ত, ঠিক তখনই বাগানের মধ্যে একটি বোমা পড়ে থাকতে দেখে। না বুঝে, সেটিকে একটি খেলনা বা ‘আম’ ভেবে ব্যাগে ভরতে যাওয়ার মুহূর্তেই ঘটে তীব্র বিস্ফোরণ। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। নিমেষের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শিশুরা। আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। আশপাশের মানুষজন ছুটে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে শিশুরা। তড়িঘড়ি তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের আগ্নেয়গিরি বইছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনাস্থলের ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি কার্যালয়। অভিযোগ, ওই আম বাগানটি এখন স্থানীয় জুয়াড়ি ও দুষ্কৃতীদের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে মদের আসর বসে এবং চলে জুয়া খেলা। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, জুয়াড়ি বা ওই অসামাজিক চক্রের সদস্যরাই সেখানে বোমা মজুত করে রেখেছিল। প্রশ্ন উঠছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন বিপজ্জনক বোমা মজুত করল কারা? স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

খবর পেয়েই ইংরেজবাজার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকা ঘিরে ফেলে শুরু হয় তল্লাশি। পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাসের বান্ডিল এবং দেশলাই উদ্ধার করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এই বোমা কোথা থেকে এল, কারা এর নেপথ্যে রয়েছে এবং কেন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এহেন বোমা মজুত করা হয়েছিল—তা জানতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই এলাকা থমথমে। পুলিশের আশ্বাসেও গ্রামবাসীদের আতঙ্ক কাটছে না। আপাতত মালদা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রের সুস্থতার কামনায় দিন গুনছেন তার পরিবার। টোটো চালক মঙ্গল রায়ের ছেলের এই করুণ পরিণতিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের ওপর এখন এলাকাবাসীর নজর, তারা কত দ্রুত এই দুষ্কৃতীদের মুখোশ খুলতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy