তৃণমূল নেতার ফেসবুক লাইভ শেষ হতেই পুলিশের খাঁচায়! কোন পুরনো কাঁটা বিঁধল মইদুলের গলায়?

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে ডায়মন্ড হারবারের নেতড়া বাজার এলাকা থেকে তাঁকে প্রথমে আটক করা হয়, পরে জিজ্ঞাসাবাদের পর ২০২২ সালের একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গভীর রাতে। গ্রেফতারির ঠিক আগেই মইদুল ইসলাম নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লাইভ স্ট্রিমিং শুরু করেন। সেখানে তাঁকে অভিযোগ করতে শোনা যায় যে, পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকে রেখেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। লাইভ ভিডিওতেই তিনি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে লেখেন, “যতই গ্রেফতার করুক, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দিদির সঙ্গে আছি, থাকব।” যদিও শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারেননি তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ডায়মন্ড হারবারের বোলসিদ্ধি কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৎকালীন উপপ্রধান নিমাই ওরফে দেবব্রত ভট্টাচার্যের রহস্যময় মৃত্যু হয়েছিল। সেই সময় মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। ওই নোটে মইদুল ইসলামের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে অভিযোগ। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই সময় মইদুল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুলিশি তদন্ত ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, তৃণমূল জমানার ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই এতদিন আইন তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। এবার নতুন করে ওই পুরনো মামলার ফাইল খোলার পরই পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিল।

মইদুল ইসলামের রাজনৈতিক সফর বেশ নাটকীয়। একসময়ে সিপিএম সমর্থক থাকলেও, পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতা হিসেবে পরিচিত মইদুলকে বিভিন্ন সময় হাই-প্রোফাইল কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে। এমনকী সিজিও কমপ্লেক্সে অভিষেকের জেরার দিনও তাঁকে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে পাশে দেখা গিয়েছিল। অতীতে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের আন্দোলনের সময় নির্বাচন কমিশনের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো কিংবা সিইও দফতরে ঘেরাও কর্মসূচিতে তাঁর ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।

পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর মইদুলকে ডায়মন্ড হারবার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মতো গুরুতর অভিযোগ দায়ের হওয়ায়, তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে অস্বস্তি বেড়েছে। তৃণমূলের শিক্ষক মহলের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি অনেকদিন আইনকে ফাঁকি দিয়েছেন, তবে আইনি জটিলতা বাড়ায় এবার আর পার পাওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে পুলিশ মামলাটির সমস্ত তথ্যপ্রমাণ নতুন করে খতিয়ে দেখছে। মইদুলের গ্রেফতারি আসন্ন জেলা রাজনীতির সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।