অতিথিকে পিটিয়ে খুন! কুলতলির ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি, পথে নামছে প্রদেশ কংগ্রেস

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে এক ভিন রাজ্যের যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সোমবার এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরব হয়েছে জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিকেলে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কুলতলির সানকিজাহান অঞ্চলে যাচ্ছে। তারা সরাসরি দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাবে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।
সোমবার কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে. সি. বেণুগোপাল এই ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জনতার হাতে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার খবরটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখে তাঁদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। জনতা যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই সংবেদনশীল বিষয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।”
এই প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে কেরলের যুবকের ওপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে, তা শুনে আমি স্তম্ভিত। যুবকটি ওই গ্রামেরই এক পরিযায়ী শ্রমিকের বন্ধু ছিল এবং কেরল থেকে ঘুরতে এসেছিল। তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে যেভাবে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে, তা দেখে শিউরে উঠতে হয়। আমেরিকার জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনার মতো এই বর্বরতা আমাদের সভ্যতার গালে চড়।” তিনি আরও বলেন, “একজন নিরপরাধ অতিথিকে এভাবে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মারা বাংলার ঐতিহ্য নয়। পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের মধ্যে ২ জন নাবালক। এটা আরও উদ্বেগের। সমাজের কোন স্তরে আমরা নেমেছি, তা ভাবার সময় এসেছে।”
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দাবি, কেবল যারা মেরেছে নয়, যারা এই হামলার ভিডিও তৈরি করে ভাইরাল করার উৎসাহ দিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোরতম ধারায় মামলা করতে হবে। নাবালক হলেও আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। শুভঙ্কর সরকার বলেন, “ওই যুবকের পরিবারের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। কেরলের মানুষ আমাদের ভাই। বাংলার মাটিতে একজন মালয়ালি যুবকের ওপর এই হামলা গোটা রাজ্যের জন্য লজ্জার।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে কেউ যেন এই ঘটনাকে ‘বহিরাগত’ বা ‘স্থানীয়’ তকমা দিয়ে ভাষার বিভাজন তৈরি না করে। “বাংলা ‘অতিথি দেব ভব’-এর দেশ। কয়েকজন অপরাধীর জন্য বাংলার গৌরব কলঙ্কিত হতে দেওয়া যায় না।” নিহত যুবকের পরিবারকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেস তাদের পাশে আছে এবং শেষ পর্যন্ত বিচার চেয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে। অপরাধীরা ভিডিও বানিয়ে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার চেষ্টা করলেও, আইন সবার উপরে—এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চায় কংগ্রেস।