ইডির ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফের সিআইডিতে হাজিরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

নির্বাচনী প্রচারের সময় ডিজে বাজানো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া মামলায় মঙ্গলবার ফের সিআইডি সদর দপ্তর ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে বেরিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি ভবানী ভবনে পৌঁছান। হাজিরা খাতায় সই করে সরাসরি তদন্তকারী আধিকারিকদের কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি সাংসদ।
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলার তদন্তের স্বার্থেই সিআইডি আধিকারিকরা সম্প্রতি তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে নোটিশ দিয়ে এসেছিলেন। সেই নোটিশের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করা হয়েছিল। এর আগে গত ১১ ও ১৪ জুন বিধানসভায় সই-জাল কাণ্ডেও তিনি ভবানী ভবনে হাজিরা দিয়েছিলেন। সেই সময় দীর্ঘক্ষণ তদন্তকারীরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন।
এই হাজিরা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে, কারণ ঠিক সোমবারই নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তাঁকে প্রায় ১১ ঘণ্টা ধরে জেরা করেছে। সিজিও কমপ্লেক্সে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরদিনই সিআইডির মুখোমুখি হতে হওয়ায় রাজনৈতিক চাপ যে ক্রমেই বাড়ছে, তা বলাই বাহুল্য। সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটের সময় ডিজে বাজানো নিয়ে করা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। সেই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে তদন্তকারীরা মঙ্গলবার তাঁকে একাধিক প্রশ্ন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি এবং রাজ্য পুলিশের সিআইডি—উভয় তরফ থেকেই ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ এখন তুঙ্গে। একদিকে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত, অন্যদিকে ডিজে বিতর্কের মতো ফৌজদারি মামলা—এই দুইয়ের চাপে দলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। আজকের এই জিজ্ঞাসাবাদের শেষে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং তদন্তকারীদের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে অভিষেক কী তথ্য প্রদান করেন, সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য-রাজনীতি।