ওমান উপকূলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতাকে নিশানা করে তীব্র আক্রমণ করেছেন। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর পরেও প্রধানমন্ত্রী একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, যা তাঁর দুর্বল পররাষ্ট্রনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
শুক্রবার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “গত তিন দিনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নিহত হয়েছেন। আর আমাদের আপোষকামী প্রধানমন্ত্রী? তিনি সম্পূর্ণ নিশ্চুপ।” আসন্ন জি-৭ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল কটাক্ষ করেন যে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী হাসবেন, আলিঙ্গন করবেন এবং আপোষ করবেন, কিন্তু নিহত ভারতীয় নাবিকদের পরিবারের কথা বলার সাহস তাঁর নেই। তাঁর মতে, মোদী সরকার যারা ভারতীয়দের হত্যা করছে তাদের রাগানোর সাহসটুকুও রাখে না।
কংগ্রেসের মিডিয়া বিভাগের প্রধান পবন খেরা এই ঘটনায় সরব হয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ব্যক্তিগত কূটনৈতিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে দায় এড়াতে পারেন না। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসম্পর্কের যে জাহির প্রধানমন্ত্রী করেন, তা ভারতীয়দের জীবন বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে।” কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ওমান উপকূলে আটকে পড়া বাকি ভারতীয়দের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ইতিমধ্যেই ভারত সরকার এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মার্কিন দূতাবাসের চার্জ ডি’অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে ভারতের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও বিষয়টি উত্থাপন করে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বথানেনি জানিয়েছেন যে, ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাত নিয়ে ভারত গভীর উদ্বিগ্ন। ভারতের মতে, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর এ ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বেসামরিক নাবিকদের জীবনকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। নর্থ ব্লকের কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিরোধীদের এই চাপের মুখে এখন সরকার কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, সেটাই দেখার বিষয়।





