সিএএ থেকে শুরু করে ওয়াকফ আইন সংশোধন—বিগত কয়েক বছরে একাধিক জাতীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ বারংবার হিংসাত্মক বিক্ষোভের সাক্ষী থেকেছে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো ঘটনা রাজ্যবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে পশু হত্যা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। উৎসবের মরশুমে সেই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় উত্তজনা ছড়ায়। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট ক্রসিংয়ে বিক্ষোভের সময় পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। সেদিনের ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী তৎক্ষণাৎ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। শুক্রবার সেই স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর ভাতের হাঁড়ির চাল টেপার মতো দু’টো চেষ্টা হয়েছিল। একটা আসানসোলে, আর দ্বিতীয়টি পার্ক সার্কাসে।” বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় তারপর থেকে আর কিছু দেখতে পারছেন না, না? আর দেখতেও পাবেন না। যদি সে রকম কিছু হয়, তবে আমার চেয়ে খারাপ কাউকে দেখতে পাবেন না।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান রাজ্য সরকার ভারতীয় সংবিধান মেনে কঠোর হাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করবে। তোষণ নীতি বা আইনহীনতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার মতো কোনো অবকাশ তাঁর প্রশাসনে নেই।
পার্ক সার্কাসের ঘটনার পর যেভাবে দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, সেই মডেলকেই আগামিদিনে কার্যকর রাখার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজ্যে আইন অমান্যকারীদের জন্য কোনো ছাড় নেই। নবান্নের এই কঠোর অবস্থান কি রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে প্রধান আলোচ্য বিষয়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই তাঁর সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং এই পথে যেকোনো বাধা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।





