সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সরকারি বাসে যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা। যাত্রী কমে যাওয়ায় দৈনিক আয় তলানিতে ঠেকায়, এবার সরকারের কাছে ‘কিলোমিটার স্কিম’ চালুর দাবি জানালেন বাস মালিক সংগঠনগুলো।
কেন এই আর্থিক সংকট? বেসরকারি বাস অপারেটরদের অভিযোগ, মহিলারা স্বাভাবিকভাবেই বিনামূল্যে পরিষেবা পাওয়ায় সরকারি বাসের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বেসরকারি বাসের যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। যুগ্ম বাস সিন্ডিকেট পরিষদের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, প্রতিটি বেসরকারি বাসে দৈনিক গড়ে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় কমেছে। এছাড়া ২০১৮ সাল থেকে বাসভাড়া অপরিবর্তিত থাকা এবং ডিজেলের দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে চলায় বাস চালানোই এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‘কিলোমিটার স্কিম’ আসলে কী? এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে মালিকরা ‘কিলোমিটার স্কিম’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রকল্পের মূল কথা হলো:
বেসরকারি বাসগুলিকেও সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও চালক সরবরাহের দায়িত্ব থাকবে মালিকদের ওপর।
পরিবহণ দফতর সেই বাসগুলো চালাবে এবং কন্ডাক্টররা ভাড়া সংগ্রহ করবেন।
বিনিময়ে মালিকরা প্রতি কিলোমিটার চলাচলের জন্য সরকারের কাছ থেকে একটি নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পাবেন।
পরিবহণ সংগঠনের দাবি: অল বেঙ্গল বাস ও মিনিবাস কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যের মোট বাসযাত্রীর প্রায় ৮৫ শতাংশই বেসরকারি বাসের ওপর নির্ভরশীল। অথচ জ্বালানির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে আর পুরনো ভাড়ায় বাস চালানো সম্ভব নয়।” সরকারের বিনামূল্যে বাসযাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের কোনো আপত্তি না থাকলেও, বেসরকারি পরিবহণকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারকে অবিলম্বে কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তে আসার আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।
কোন রুটগুলোতে প্রভাব বেশি? শিলিগুড়ি-কুচবিহার রুট কিংবা হাওড়া স্টেশন থেকে কলকাতার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া রুটে এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। সরকারি বাসের আধিক্য থাকায় এই রুটগুলোতে যাত্রী খুঁজে পাওয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি অপারেটরদের।
সরকারি পদক্ষেপের অপেক্ষায়: পরিবহণ মহলের একাংশের মতে, রাজ্যের পরিবহণ পরিকাঠামোয় বেসরকারি বাসের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এমতাবস্থায়, সরকার যদি এই ‘কিলোমিটার স্কিম’ বা অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থার কথা না ভাবে, তবে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যের বহু রুটে বেসরকারি বাস পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।





