দলীয় নেতৃত্বের প্রতি তীব্র ক্ষোভ এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিলেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক ডামাডোল এবং বিদ্রোহীদের সমর্থনে যে মন্তব্য করেছেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বিদ্রোহীদের সমর্থন কেষ্টর: তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া বিদ্রোহের আবহ নিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের অবস্থান চমকে দেওয়ার মতো। তাঁর কথায়, “বিদ্রোহীরা অন্যায় কিছু করেনি। তারা খারাপ কাজও করেনি, বরং আলাদা ফ্রন্ট তৈরি করেছে।” বিদ্রোহীরা বিজেপিতে যোগ দেননি—এই যুক্তি দিয়ে তিনি তাঁদের কিছুটা আগলে রাখার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে অনুব্রত অকপটে স্বীকার করেছেন, অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা দলের একটি বড় ভুল ছিল।
আইপ্যাক-কে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন: দলের সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি ভোটকুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-কে দায়ী করেছেন তিনি। কেষ্টর তোপ, “আইপ্যাক এসেছিল শুধু টাকা খেতে আর তথ্য পাচার করতে।” তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত কোনো আইপ্যাক বা ‘জ্ঞানী-গুণী’ পরামর্শদাতা ছাড়াই তৃণমূল শূন্য থেকে ক্ষমতায় এসেছিল। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শেষদিকে ভুল মানুষের পাল্লায় পড়েছিলেন।
মমতার প্রতি সমবেদনা, নিজের অবস্থানে অনড়: নেত্রীর বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কেষ্ট বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আমার প্রচণ্ড খারাপ লাগছে। তাঁকে দেখলে কষ্ট হয়।” তবে নিজের রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জামিন পাওয়ার পর থেকে তিনি কার্যত রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে কোনো ভূমিকাই ছিল না তাঁর। তাঁর ভাষায়, “তখন তো অন্য জনের হাতে ঘি খেয়েছে, আমার হাতে তো ঘি খায়নি!”
ভবিষ্যৎ নিয়ে কি স্পষ্ট বার্তা? তৃণমূলের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে জিজ্ঞাসায় অনুব্রত খুব কৌশলী উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানান, এখনও তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন। তবে দলের অন্দরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়ে তাঁর বার্তা, “সম্মান পেলে দল করব, আর সম্মান না পেলে দল করব না।”





