আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI171-এর সেই ভয়াবহ বিপর্যয়কে এক বছর পেরিয়ে গেলেও আজও রহস্যের কুয়াশায় ঘেরা। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনারটি ওড়ার মাত্র ৩২ সেকেন্ডের মধ্যে ভেঙে পড়েছিল, যা কেড়ে নিয়েছিল ২৪১ জন যাত্রী এবং মাটিতে থাকা ১৯ জনসহ মোট ২৬০ জনের প্রাণ। ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ আজও তদন্তকারী, বিমান বিশেষজ্ঞ এবং নিহতদের পরিবারের কাছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।
এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)-এর প্রাথমিক রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ওড়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ককপিটের দুটি ‘ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ’ রহস্যজনকভাবে “RUN” থেকে “CUTOFF” অবস্থানে চলে যায়, যার ফলে ইঞ্জিন জ্বালানিহীন হয়ে পড়ে এবং বিমানটি শক্তি হারিয়ে আহমেদাবাদ বিমানবন্দরের কাছে বিএজে মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেল কমপ্লেক্সে আছড়ে পড়ে। যদিও পাইলটরা পরে সুইচ সচল করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।
তদন্তে প্রধানত তিনটি তত্ত্ব সামনে আসছে। প্রথমত, পাইলটদের ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ। ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে দুজনের মধ্যে কথোপকথন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক, যেখানে একজন অপরকে জিজ্ঞাসা করছেন, “তুমি কেন ফুয়েল বন্ধ করলে?” যদিও পাইলটদের পরিবার এবং ‘ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস’ (FIP) এই তত্ত্বকে পুরোপুরি খারিজ করেছে। তাদের দাবি, পাইলটরা অত্যন্ত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ ছিলেন। দ্বিতীয়ত, এটি কি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সফটওয়্যার গ্লিচ? এফআইপি-র সভাপতি ক্যাপ্টেন সিএস রনধাওয়া দাবি করেছেন, বিমানটিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগ ও স্ট্যাবিলাইজার সংক্রান্ত পূর্ববর্তী সমস্যা ছিল, যা তদন্তে উপেক্ষা করা হয়েছে। তৃতীয়ত, কোনো অজানা মানবিক বা যান্ত্রিক বিভ্রান্তি।
তদন্তে বিলম্বের কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক জটিলতাকেও দায়ী করা হচ্ছে। বিমানটি বোয়িং নির্মিত, ইঞ্জিন জিই অ্যারোস্পেসের এবং দুর্ঘটনায় আন্তর্জাতিক যাত্রীদের মৃত্যু হওয়ায় ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা যৌথভাবে কাজ করছেন। চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এই জল্পনা-কল্পনা যেন নিহতদের পরিবারের কাছে এক অন্তহীন যন্ত্রণার নামান্তর। বিমানটি ওড়ার সাথে সাথে কেন ইঞ্জিন হঠাৎ বিকল হয়ে গেল, তার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই থাকবে। বিশ্বাসকুমার রমেশের মতো একমাত্র জীবিত ব্যক্তি এবং শোকার্ত পরিবারগুলোর একটাই দাবি—সঠিক তদন্ত হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় আর কোনোদিন না ঘটে।





