দীর্ঘ চার বছরের তীব্র প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। ১১ জুন মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের কিক-অফ সম্পন্ন হলো। ভোরের আলো ফুটতেই স্টেডিয়ামের বাইরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। জার্সি, ড্রাম আর বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সমবেত হয়েছিলেন হাজারো সমর্থক। যাদের কাছে টিকিট ছিল না, তারাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে স্টেডিয়ামের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন।
ভারতীয় সময় রাত ১০:৩০ মিনিটে শুরু হওয়া এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। অনুষ্ঠানের শুরুতে মেক্সিকোর জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ‘মানা’ তাদের গানে ও সুরে স্থানীয় সংস্কৃতির জয়গান গেয়ে দর্শকদের উদ্বেলিত করে তোলে। এরপর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওসানের পারফরম্যান্স স্টেডিয়ামের উত্তেজনাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। স্থানীয় পোশাক, শিল্পকলা এবং ভাষার সাবলীল উপস্থাপনা উপস্থিত দর্শকসহ বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করে নিয়েছে।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরার উপস্থিতি। হলুদ টপ, সাদা মিনিস্কার্ট এবং সানগ্লাসে মঞ্চে নেমেই তিনি দর্শকদের সম্মোহনী সুরে ভাসিয়ে দেন। তাঁর সঙ্গে জনপ্রিয় রক স্টার বার্না বয়ের যুগলবন্দী এবং বিশ্বকাপের থিম সং গাওয়ার সময় গোটা স্টেডিয়াম যেন এক বিশাল উৎসবে রূপ নেয়। আতশবাজির ঝলকানি আর দর্শকদের উল্লাসে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের পরিবেশ ছিল দেখার মতো।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার তিনটি দেশে পৃথকভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে। মেক্সিকোর সফল সূচনার পর এবার পালা কানাডা ও আমেরিকার। ১২ জুন, ভারতীয় সময় রাত ১১টা থেকে কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের পরবর্তী উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এর পরপরই মাঠে গড়াবে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা বনাম প্রতিপক্ষের লড়াই। একইভাবে ১৩ জুন, ভারতীয় সময় ভোর ৫টায় আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হবে তৃতীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, যার পরই আমেরিকা বনাম পানামা ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে মাঠের লড়াই। ফুটবলপ্রেমীরা এখন টানটান উত্তেজনায় পরবর্তী ম্যাচগুলোর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।





