VAR-এর পর এবার ‘RefCam’! বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রযুক্তি নিয়ে মাতল ফুটবল দুনিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই টানটান উত্তেজনা, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে তার সাথে যোগ হয়েছে প্রযুক্তির দুর্দান্ত সব চমক। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই খেলার রেজাল্ট ছাপিয়ে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন রেফারি উইলটন সাম্পাইও। তাঁর কানে থাকা ফিউচারিস্টিক হেডসেট দেখে নেটিজেনরা রীতিমতো বিস্ময়ে হতবাক!

কেন নেটপাড়ায় ট্রোলড হেডসেটটি? উদ্বোধনী ম্যাচেই রেফারি সাম্পাইওর কানে থাকা মাইক্রোফোন-যুক্ত হেডসেটটি দেখে ফুটবলপ্রেমীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মন্তব্য শুরু করেছেন। কেউ একে তুলনা করছেন জনপ্রিয় গেম ‘এক্স-বক্স’ (Xbox) হেডসেটের সঙ্গে, তো কেউ আবার বলছেন রেফারিকে একেবারে ‘রোবোকপ’-এর মতো দেখাচ্ছে! ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেমিং জোন থেকে উঠে আসা কোনো যন্ত্র মনে হওয়ায় এটি নিয়ে মিমের বন্যা বয়ে যাচ্ছে নেটপাড়ায়।

আসলে কী এই যন্ত্রটি? সোশ্যাল মিডিয়া যতই মজা করুক, এর পেছনে রয়েছে ফিফার নিখুঁত পরিকল্পনা। এটি মূলত একটি ‘ওয়্যারলেস রেফারি কমিউনিকেশন সিস্টেম’, যা ‘RefCam’ বা ‘EarCam’ নামে পরিচিত। এর প্রধান কাজ হলো:

  • সহকারী রেফারি, চতুর্থ অফিসিয়াল এবং VAR টিমের সঙ্গে রেফারিকে রিয়েল-টাইমে যুক্ত রাখা।

  • ফাউল, অফসাইড বা কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা।

২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার প্রযুক্তি-বিপ্লব রেফারির হেডসেট কেবল একটি ট্রেলার মাত্র! এবারের বিশ্বকাপে আরও যে প্রযুক্তিগুলি গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করছে:

১. স্মার্ট ম্যাচ বল: বলের ভেতরে থাকা মোশন সেন্সর চিপ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার স্পর্শ ও পাসের ডেটা রেকর্ড করবে। ২. সেমি-অটোমেটেড অফসাইড টেকনোলজি: প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ডিজিটাল স্ক্যান ও হক-আই সিস্টেমের মাধ্যমে ১ মিলিমিটারের নির্ভুল অফসাইড সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ৩. চেস্ট ক্যামেরা: রেফারিদের বুকে বসানো ক্যামেরার মাধ্যমে দর্শকরা মাঠের ভেতর থেকে খেলোয়াড়দের অ্যাকশন ‘পয়েন্ট অফ ভিউ’ (POV) থেকে উপভোগ করতে পারবেন।

ফিফার এই আধুনিক প্রযুক্তিগুলি মূলত মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রযুক্তির এই লড়াইয়ে আগামী ম্যাচগুলোতে আর কী কী চমক থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy