তৃণমূলের অন্দরে চূড়ান্ত সংঘাত: অভিষেক বনাম কল্যাণ! দল ছাড়ার হুঙ্কারে মমতা-ঘনিষ্ঠ সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙন শুরু হয়েছিল, তা এখন চরমে পৌঁছাল। বৃহস্পতিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদগার করে দলনেত্রীকে একপ্রকার চরমপত্র দিয়ে বসলেন।

কী বললেন কল্যাণ? কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘অহংকারী’ আচরণের কারণেই আজ তৃণমূল কংগ্রেস ধ্বংসের মুখে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—তিনি অভিষেককে বেছে নেবেন নাকি আমার মতো পুরনো কর্মীদের। আমি আর এই অহংকারী মানুষের সঙ্গে দলে থাকতে পারব না।” ২০২২ সালেও তিনি অভিষেকের আচরণের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন, কিন্তু তখন কেউ পাশে না দাঁড়ানোয় কোনোমতে টিঁকে গিয়েছিলেন, আজ সেই ক্ষোভ বিস্ফোরণের আকার নিয়েছে।

আইনি জটিলতা ও অপমান স্বাক্ষর জালিয়াতির মামলায় বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেকের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল কল্যাণের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁকে মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত ‘অসম্মানজনক’ ঠেকেছে। কল্যাণ জানান, “মাঝরাতে আমাকে জানানো হয় আইনজীবী বদলে ফেলা হয়েছে। অভিষেক আমাকে কখনো বিশ্বাস করেনি, আমিও করি না। ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করতে জানে না।”

পদত্যাগের হিড়িক তৃণমূলের অন্দরে তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই কোন্দল কেবল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক দিনে একের পর এক সাংসদের পদত্যাগের ফলে দল কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। গত ৮ই জুন সুখেন্দু শেখর রায়, ১০ই জুন সুস্মিতা দেব এবং আজ ১১ই জুন প্রকাশ চিক বরাইক রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। ফলে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১০-এ। সূত্রের খবর, আরও বহু সাংসদ ও বিধায়ক দল ছাড়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।

মমতার কাছে বড় পরীক্ষা তৃণমূলের অন্দরে এই গৃহযুদ্ধ এবং হেভিওয়েট নেতাদের একের পর এক বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ারে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে আদালতের চাপে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে পুরনো সঙ্গীদের ক্ষোভ—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এখন নেত্রীর কাছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিদ্রোহ সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল, যেখানে তিনি নেত্রীকে পরিবারের সদস্য নাকি দলের পুরনো কর্মীদের বেছে নেওয়ার জন্য বাধ্য করছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy