তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা ভাঙনের জল্পনার মধ্যেই দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। তাঁর নাম জড়িয়ে বিদ্রোহী শিবিরের যোগদানের যে খবর রটেছিল, তাকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, তাঁকে নিয়ে যাওয়া বা দলবদল করানোর জন্য যে গোপন ‘অফার’ বা যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল, তাও অকপটে স্বীকার করে নিলেন প্রতিমা মণ্ডল।
যা বললেন প্রতিমা মণ্ডল: এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমা মণ্ডল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আস্থা রাখছেন। তিনি বলেন, “আমি দিদির সঙ্গেই আছি। ৪ জুনের পর আমি দিল্লিতে যাইনি, বর্তমানে কলকাতাতেই আছি।” তাঁর দাবি, ৩ বার নির্বাচিত হওয়ার পর এবং প্রায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ের পর ২০২৯ সাল পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
‘যোগাযোগের চেষ্টা হয়েছিল’: প্রতিমা মণ্ডলের এই মন্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো তাঁর স্বীকারোক্তি। তিনি জানিয়েছেন, অন্য পক্ষ (বিদ্রোহী শিবির) থেকে তাঁকে বারবার দিল্লিতে আসার জন্য ফোন করা হয়েছিল এবং নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রলোভনে পা দেননি এবং কোনো প্রস্তাবই গ্রহণ করেননি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: রাজনীতির ময়দানে গুজব বা ‘নয়েজ’ যখন চরমে, তখন প্রতিমা মণ্ডলের এই বিবৃতি তৃণমূল শিবিরে কিছুটা স্বস্তি জোগাতে পারে। দল ভাঙানোর প্রচেষ্টায় যে পর্দার আড়ালে বড় কোনো খেলা চলছে, প্রতিমার এই স্বীকারোক্তি তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।
তৃণমূলের অন্দরে যখন একে একে সাংসদরা বিদ্রোহের পতাকা তুলছেন, তখন প্রতিমা মণ্ডলের এই ‘অনড়’ অবস্থান ভবিষ্যতে কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। তৃণমূল নেতৃত্ব এই বিষয়ে শেষ পর্যন্ত কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





