রাজ্য বাজেট পেশের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি তুঙ্গে। সেই আবহেই মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ সফরে পৌঁছালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি অংশ নেন। বাজেট ঘোষণার আগে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজকর্ম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের পর্যালোচনা এবং আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
উত্তরকন্যায় আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। এছাড়া বৈঠকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের সচিব পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, শিক্ষা ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন বাজেটের রূপরেখা নিয়ে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, যে সমস্ত ক্ষেত্রে কাজের গতি শ্লথ হয়ে রয়েছে, সেখানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সুফল যাতে দ্রুত পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বৈঠকে পাহাড় ও সমতলের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, পর্যটন, কৃষি এবং ক্ষুদ্র শিল্পক্ষেত্রে নতুন নতুন সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একাধিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করে কাজে আরও গতি আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন সরকারি পরিষেবার স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল পরিষেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
বৈঠকে প্রতিটি জেলার আধিকারিকরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার সমস্যাগুলি তুলে ধরেন। রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জল সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে উন্নয়নের ঘাটতির কথা আলোচনা করা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, আধিকারিকদের সমস্যা শোনার পর অর্থমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ঘোষণার আগে এই ধরনের পর্যালোচনা বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রশাসনিক পরিকল্পনাকে যেমন সুসংহত করে, তেমনই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সাহায্য করে। ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে রাজ্য সরকার কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, এই বৈঠক তার বড় প্রমাণ। প্রশাসনিক মহলের আশা, অর্থমন্ত্রীর এই সফরের পরেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্তব্ধ হয়ে থাকা প্রকল্পগুলিতে ফের প্রাণ ফিরবে এবং আগামী বাজেটে এই অঞ্চলের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে।





