ভারতের আমে নাকি মিলেছে অধিক মাত্রায় কীটনাশক! দাবি করা হচ্ছে, নেপাল ও জাপানে নিষিদ্ধ হয়েছে ভারতীয় আম। কিন্তু এই চাঞ্চল্যকর খবরের সত্যতা কতটা? সত্যিই কি ভারতের আমে বিষ মিলেছে? সম্প্রতি এই সংক্রান্ত খবর সোশ্যাল মিডিয়া ও কিছু সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার কেন্দ্র সরকার জানিয়ে দিল, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।
বুধবার কেন্দ্রীয় কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, নেপালে ভারতীয় আমের রফতানি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবেই চলছে। নেপাল সরকার ভারতীয় আমের ওপর কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। মন্ত্রকের মতে, কিছু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এই গুজব ছড়ানো হয়েছে। নেপালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছে যে, ভারত থেকে আম আমদানিতে কোনো বাধা নেই।
কৃষি মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ ও কীটনাশক ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র গত ১০ জুন একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে। সেখানে পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সংক্রান্ত শর্তাবলি পূরণ করা হলে ভারতীয় আম নেপালে রফতানিতে কোনো সমস্যা নেই। চলতি বছরের পরিসংখ্যানও সরকারের এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করে। জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ভারত নেপালে মোট ২,০০৫ টন আম রফতানি করেছে। এমনকি জুন মাসেই ১৮টি চালানের মাধ্যমে প্রায় ২৬৬ টন আম সাফল্যের সঙ্গে নেপালে পৌঁছেছে। মোট ১৪৯টি চালানে এই বাণিজ্য সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে দুই দেশের মধ্যে আমের বাণিজ্য স্বাভাবিক ছন্দেই চলছে।
তাহলে কি কোনো নতুন নিয়ম এসেছে? হ্যাঁ, নেপাল সম্প্রতি তাদের আমদানি নীতিতে কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যের নিরাপত্তা এবং গুণমান নিশ্চিত করতে ‘হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট’ বা গরম জলে বিশেষ প্রক্রিয়াকরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম মেনে চললেই আম আমদানির ছাড়পত্র মিলছে। এটি কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং এটি একটি গুণমান রক্ষার প্রক্রিয়া মাত্র।
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক ব্যবসায়ী, রফতানিকারক এবং কৃষকদের অনুরোধ জানিয়েছে যে, তারা যেন শুধুমাত্র সরকারি সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করেন। যেকোনো ধরনের অপ্রমাণিত খবর বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে। এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেশের রফতানি বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই বিবৃতির পর আপাতত ভারতের আম রফতানি নিয়ে সমস্ত সন্দেহের মেঘ কেটে গেল। সূত্র: এশিয়ানেট নিউজ বাংলা।





