২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একের পর এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একসময়ে যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং নেত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেখার স্বপ্ন দেখতেন, সেই সায়নী ঘোষের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তীব্র ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। দলের যুব সভানেত্রী কোথায়? এই প্রশ্ন এখন তৃণমূলের অন্দরেই বড় আকার নিয়েছে।
অভিযোগ উঠছে, দলের একাংশ বিদ্রোহী সাংসদদের সাথে সায়নী ঘোষ যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে যে চিঠি বিদ্রোহী সাংসদরা পাঠাতে চলেছেন, তাতে সায়নী ঘোষও সই করেছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি সায়নী আক্ষেপ করে বলেছেন, “তৃণমূলের অন্দরে আর ভবিষ্যৎ নেই।” এই মন্তব্য যদি সত্যি হয়, তবে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড়সড় ধাক্কা হতে চলেছে।
সায়নী ঘোষের এই আচমকা ‘বেপাত্তা’ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তৃণমূল যুব সংগঠনের নেতারাও বিব্রত। খোদ দলের যুব তৃণমূলের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নেতারা তাঁর অবস্থান জানতে চেয়ে পোস্ট করেছেন। কিন্তু কোথাও কোনো সদুত্তর মেলেনি। উল্টোদিকে, সম্প্রতি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে সায়নীকে দেখা গিয়েছিল এবং নেত্রী তাঁকে মহিলা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিলেন। দায়িত্ব পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই এভাবে সায়নীর ‘নিরুদ্দেশ’ হওয়া রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে টলিউড অভিনেত্রী সায়নী ঘোষের তৃণমূলে যোগদান ছিল অত্যন্ত চমকপ্রদ। কোনো রকম তৃণমূলের নিচুতলার সংগঠনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সরাসরি যুব সভানেত্রীর পদ পেয়েছিলেন। যা নিয়ে দলের অন্দরে অনেক পুরনো নেতা ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু আজ সেই সায়নীই কি দলবদল বা নতুন ব্লকের অংশ হতে চলেছেন? সূত্রের খবর, সোমবার রাত পর্যন্ত লোকসভায় তৃণমূলের ১৬ জন সাংসদ পৃথক ব্লক তৈরির জন্য স্পিকারের কাছে সই করা চিঠিতে সম্মতি দিয়েছেন। সেই তালিকায় সায়নীর নাম থাকা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি নিয়ে এখনো নীরব থাকলেও, দলের ভেতর যে ভাঙন ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট। মমতা ও অভিষেকের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে যেভাবে একাধিক নেতা-নেত্রী দল ছাড়ছেন বা বিদ্রোহ করছেন, তাতে সায়নী ঘোষের পরবর্তী পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, সায়নী কি দলের অভ্যন্তরীণ ঝামেলার সমাধান করে ফিরে আসেন, নাকি তিনিও অন্য কোনো রাজনৈতিক শিবিরের সাথে হাত মেলাতে চলেছেন। রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই চর্চা— কোথায় সায়নী?





