‘ভাত নেই, এখন কাঁচা ডিমই খেতে হবে’, তৃণমূলের দুর্দিনে বিস্ফোরক মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পরেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটছে। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি প্রান্তে তোলাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং যেখানেই তাঁদের দেখা যাচ্ছে, সেখানেই স্থানীয় বাসিন্দারা ডিম, পচা টমেটো ও গোবর ছুড়ে নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন।

সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুর থেকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব সভাপতি সুজিত কুমার ওরফে বচ্চন। বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতারের পর থানা থেকে বের করার সময় উন্মত্ত জনতা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে প্রতিবাদ জানান। শুধু বচ্চনই নন, এই জনরোষের শিকার হয়েছেন একদা দাপুটে নেতা তথা বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তও। তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার হয়ে আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় সব্যসাচী দত্তকে দেখে বিক্ষোভকারীরা ডিম ও পচা টমেটো ছুড়তে শুরু করেন। এতটাই তীব্র ছিল ক্ষোভ যে, তাঁর গায়ে গোবর লেপে দেওয়া হয়। আদালত তাঁকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে, আর আদালত থেকে বের হওয়ার সময়ও তাঁকে একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়।

এই পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছেন রাজ্যের বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “হরিণঘাটার ডিমের ডিমান্ড এখন বাজারে তুঙ্গে। এতদিন ওরা তো নোট খেয়েছিল, এখন কাঁচা ডিম খাচ্ছে! ২১ জুলাই এলেই একসময় ডিম-ভাত বিখ্যাত ছিল, কিন্তু এখন ভাত রান্নার সুযোগ নেই, তাই তৃণমূল নেতাদের কাঁচা ডিমই খেতে হচ্ছে।” দিলীপ ঘোষের মতে, বিগত বছরগুলোতে তৃণমূল নেতৃত্ব যে পরিমাণ অত্যাচার ও অনাচার চালিয়েছে, তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। তবে তিনি এও মন্তব্য করেন যে, মানুষ অন্তত ইট মারছে না, ডিম মারছে—এটাই মন্দের ভালো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই ভরাডুবির দিনে নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের এই সরাসরি প্রতিবাদ প্রমাণ করছে যে, গত কয়েক বছরে শাসক দলের বিরুদ্ধে কতটা ক্ষোভ জমেছিল। সব্যসাচী দত্ত থেকে শুরু করে সুজিত কুমার—প্রত্যেকেই একসময় এলাকায় দাপট দেখিয়ে চলতেন, আর আজ তাঁদেরই জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই ক্ষমতাচ্যুতির পর শাসক দলের নেতাদের এমন বেআব্রু অবস্থা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে বড়সড় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, বিরোধী শক্তির উত্থানের পর তৃণমূলের এই পতনের রেশ কতটা দীর্ঘ হবে? স্থানীয় মানুষ যেভাবে পথেঘাটে নেতাদের হেনস্তা করছেন, তা কি কেবল ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নাকি এর পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে আছে? বিধাননগর মহকুমা আদালত সব্যসাচী দত্তের হেফাজত মঞ্জুর করলেও, তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মানুষের এই ডিম-গোবর বৃষ্টির ঘটনা আগামী দিনের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এক নতুন ও রক্তাক্ত অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।