শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কার হাতে কোন মন্ত্রক? নবান্ন থেকে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ তালিকা

গত ১ জুন শপথ গ্রহণের পর অবশেষে নবান্ন থেকে প্রকাশিত হলো রাজ্যের নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা। রাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ৩৫ জন মন্ত্রীকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বন্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
পূর্ণমন্ত্রীদের মধ্যে অর্থ দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় রদবদল ঘটিয়ে দীপক বর্মনকে স্কুলশিক্ষা, আবাসন এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরে তাপস রায় এবং উচ্চ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব পেয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এছাড়া অরূপ কুমার দাস সেচ ও জলপথ এবং দিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণনের দায়িত্ব সামলাবেন। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মধ্যে পর্যটনে শঙ্কর ঘোষ, পরিবহণ ও শ্রমে অর্জুন সিংহ, বন ও পরিবেশে মনোজ কুমার ওঁরাও, স্বাস্থ্যে শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্ত দপ্তরে অজয় কুমার পোদ্দারকে নিযুক্ত করা হয়েছে।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন মালতি রাভা রায়, যিনি নারী ও শিশু কল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কর্মসংস্থান এবং পরিসংখ্যান দপ্তর সামলাবেন। প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য দপ্তর পেয়েছেন রাজেশ মাহাতো, এবং ক্রীড়া, যুব কল্যাণ ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের দায়িত্বে থাকছেন ইন্দ্রনীল খাঁ।
মন্ত্রিসভার ভারসাম্য রক্ষায় আঞ্চলিকতাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ থেকে মোট ১০ জন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জঙ্গলমহলের প্রতিও বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলা পূর্ব মেদিনীপুর থেকে চারজন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এছাড়া মন্ত্রিসভায় নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে ৭ জন মহিলা বিধায়ককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী ধাপে ধাপে মন্ত্রিসভা গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এর আগে অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনীয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডুকে বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরির আগে শুভেন্দু অধিকারী দিল্লিতে গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন, যা মন্ত্রিসভায় নতুন এই মুখগুলোর অন্তর্ভুক্তি এবং দপ্তর বন্টনের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নবান্ন থেকে প্রকাশিত এই নতুন তালিকা রাজ্যের পরবর্তী প্রশাসনিক দিকনির্দেশনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।