দিল্লি-এনসিআর এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহের কবলে থাকা জনজীবনের জন্য সুখবর নিয়ে এল ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)। আগামী ১১ ও ১২ জুন দুই দিন দিল্লি-এনসিআর-এ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৃষ্টির প্রভাবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত স্বস্তি ফিরবে রাজধানীতে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১২ জুন নাগাদ রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে ৩৫-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে আসতে পারে, যা গত কয়েকদিনের অসহ্য গরম থেকে অনেকটাই স্বস্তি দেবে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, দিল্লির বিভিন্ন অংশে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় লাল ও কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বজ্রঝড়, বিদ্যুৎ চমকানো, শিলাবৃষ্টি এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির জন্য বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। লাল সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, যা কিছু ক্ষেত্রে ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উত্তর দিল্লির বাইরের অংশ, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব দিল্লির জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা।
এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার ফলে রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দৃশ্যমানতা কম থাকায় এবং ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়ে ৪০০-এর বেশি ফ্লাইট দেরিতে চলছে। এছাড়াও ভারী বৃষ্টির ফলে শহরের বিভিন্ন প্রধান সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য হরিয়ানায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নুহ জেলায় প্রচণ্ড ঝড়ের কবলে পড়ে টিনের চাল উপড়ে যাওয়ায় ১৮ বছর বয়সী এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, মধ্য পাকিস্তান এবং রাজস্থানের উপর একটি ঘূর্ণিঝড় সঞ্চালনের কারণেই এই তীব্র আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, বাংলার আবহাওয়ার চিত্র ভিন্ন। উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইতিমধ্যেই বর্ষা প্রবেশ করেছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে আজও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে বুধবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলিতে হালকা বৃষ্টির পাশাপাশি ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝড়ের সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। রাজ্যজুড়ে এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।





