ইরানকে ৩ বিলিয়ন ডলার পাঠাল আরব আমিরাত? যুদ্ধবিরতির গোপন চুক্তিতে তোলপাড় মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফের এক চাঞ্চল্যকর তথ্যে শোরগোল পড়ে গেছে আন্তর্জাতিক মহলে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘কান’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান-মার্কিন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানের সঙ্গে একটি গোপন নিরাপত্তা চুক্তি করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে হামলা না চালানোর বিনিময়ে তেহরানকে ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠিয়েছে আবুধাবি।
যদিও এই খবরের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। মুখপাত্রের স্পষ্ট বক্তব্য, তেহরান কোনো ধরনের তহবিল বা অর্থ সহায়তা পায়নি। তবুও, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সম্প্রতি আকাশপথে আমিরাত থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ তেহরানে পাঠানো হয়েছে, যা কূটনৈতিক চ্যানেলে এক বিশেষ কৌশলের অংশ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কেন এই সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হলো? জানা যায়, ইরান-মার্কিন অস্থিরতার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। আমিরাত সরকারের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেই সময় দেশটি ২,২৬৫টি ড্রোন হামলা, ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আবুধাবি ও দুবাইয়ের ওপর ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। সব মিলিয়ে ২,০০০-এরও বেশিবার আক্রমণের সম্মুখীন হয় আমিরাত, যাতে ১৩ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে এবং ২৩০ জন আহত হন। ইরানের দাবি ছিল, ইসরায়েলের কৌশলগত মিত্র হওয়ার কারণেই আমিরাত তাদের নিশানায় ছিল।
তবে যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্বে দেখা যায়, ইরান আমিরাতের ওপর হামলা বন্ধ করে দিয়েছে। বর্তমানে ইরানের মূল লক্ষ্য কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। এই আচমকা কৌশল পরিবর্তনের পেছনেই ওই গোপন চুক্তি কাজ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এটিই প্রথম নয়, এর আগেও ইরান কাতারের সঙ্গে অনুরূপ একটি চুক্তি করেছিল। কাতার ৬০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করার বিনিময়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। কাতার ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা স্থাপনে দোহা বরাবরই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। এছাড়া কাতার প্রতিনিয়ত ইরানের ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানের জন্য অতিরিক্ত ১২ বিলিয়ন ডলার পাওয়ার বিষয়েও আন্তর্জাতিক মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনীতিতে অর্থের বিনিময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই নতুন ধারা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আমিরাতের এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার আশা দেখছেন অনেকে, অন্যদিকে ইরান ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান স্নায়ুযুদ্ধের আবহে এই চুক্তি নতুন কোনো সংঘাতের জন্ম দেয় কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।