বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৬৮-এর রহস্য! ইরানের জার্সিতে কোন মর্মান্তিক সত্য লুকিয়ে?

বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগে থেকেই ইরান বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং নানা উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। একসময় ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইরান ফুটবল দল বিশ্বকাপের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত। আর এই প্রস্তুতির আবহে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি রহস্যময় সংখ্যা— ‘১৬৮’।

সম্প্রতি মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শিবির শুরু করেছে ইরান দল। সেখানে অনুশীলনের সময় ইরানের ফুটবলারদের বুকে একটি বিশেষ পিন দেখা গেছে, যাতে লেখা ‘#১৬৮’। এই ১৬৮ সংখ্যাটি কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি একটি ভয়াবহ ট্র্যাজেডির স্মারক। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় তিন মাস আগে ইরান-ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের জেরে ইরানের একটি স্কুলে ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালানো হয়। ইরান সরকারের দাবি, সেই হামলায় ১৬৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার মধ্যে শতাধিক ছিল কোমলমতি শিশু। ইরান সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছে ইজরায়েলের দিকে এবং তাতে আমেরিকার মদত ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। যদিও আমেরিকা বা ইজরায়েল—কেউই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ফিফা অত্যন্ত কঠোর। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, মাঠের ভেতরে কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় স্লোগান বা বার্তা প্রদর্শন করলে সংশ্লিষ্ট দল বা খেলোয়াড়কে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে ইরানের খেলোয়াড়রা এই প্রতিবাদটি মাঠের বাইরে বা অনুশীলনের সময় করায় ফিফার রোষানলে পড়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। ফুটবল প্রেমীরা মনে করছেন, যেহেতু এটি কোনো অফিসিয়াল ম্যাচের অংশ নয়, তাই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হবে।

উল্লেখ্য, ইরানের এই প্রতিবাদী সত্তা নতুন কিছু নয়। গত মার্চ মাসে তুরস্কে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচেও ইরানের খেলোয়াড়দের দেখা গিয়েছিল গোলাপি-বেগুনি রঙের ব্যাগ নিয়ে মাঠে নামতে। সেই ব্যাগের মাধ্যমেই তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শিশুদের প্রতি নিজেদের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেছিল। এবার বিশ্বকাপের প্রাক্কালে ১৬৮ সংখ্যার এই পিন বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় ভাসছে বিশ্ব, অন্যদিকে তখন ইরানের এই মানবিক প্রতিবাদ খেলার মাঠের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে রাজনীতির অলিন্দে। এই ১৬৮ নম্বর পিন কি বিশ্বকাপের মঞ্চে ইরানের কোনো নতুন কৌশলের ইঙ্গিত? নাকি এটি কেবলই নিহত শিশুদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy