হুগলির কোন্নগরে এক তৃণমূল কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত গোডাউন থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ সরকারি সামগ্রী। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ, যে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ছিল, তা গোপনে মজুত করা হয়েছিল ওই কাউন্সিলরের নিজস্ব গুদামে। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা যৌথ অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে।
জানা গেছে, কোন্নগর পুরসভার এক তৃণমূল কাউন্সিলরের গোডাউনে দীর্ঘ দিন ধরে এই সামগ্রীগুলো লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযান চলাকালীন সেখানে ত্রিপল, কম্বলসহ দৈনন্দিন ব্যবহারের একাধিক জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাওয়া যায়, যার গায়ে সরকারি সিলমোহর স্পষ্ট। সরকারি এই ত্রাণ সামগ্রী কীভাবে একজন জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত গোডাউনে পৌঁছাল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে অনিয়ম চলছিল। গরিব মানুষের জন্য আসা ত্রাণ সামগ্রী তাদের হাতে না পৌঁছে ব্যক্তিগত গুদামে পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বহুদিনের।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি থাকায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে কোনো বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী দলের অভিযোগ, শাসকদলের মদতেই এই ত্রাণ চুরির কারবার চলছে। মানুষের জন্য আসা শীতবস্ত্র বা দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যবহৃত ত্রিপল কেন কাউন্সিলরের গুদামে থাকবে, তার সদুত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নেতৃত্ব।
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলোর সঠিক হিসাব এবং সেগুলো কোন দপ্তর থেকে বরাদ্দ করা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। কাউন্সিলরের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে, কার নির্দেশে এবং কী উদ্দেশ্যে এই সামগ্রী এখানে মজুত করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করার আশ্বাস দিয়েছে।
কোন্নগরের এই ঘটনা রাজ্যে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়ে শাসকদলের কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তা তৃণমূল কংগ্রেসের ইমেজে বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তদন্তের স্বার্থে এলাকায় কড়া পুলিশি নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয়দের দাবি, এই চুরির সঙ্গে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশি তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং এই ঘটনায় আর কারা জড়িত রয়েছে।





