বিধানসভার সই জালকাণ্ডে এবার নজিরবিহীন উত্তাপ রাজ্য রাজনীতিতে। এই কাণ্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি তলব করার পর থেকেই পারদ চড়ছে রাজনৈতিক মহলে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। অভিষেকের সিআইডি হাজিরা নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখনই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি বিধানসভার একটি সই জাল সংক্রান্ত ঘটনায় অভিষেকের নাম জড়িয়ে পড়ায় তাকে তলব করা হয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এ প্রসঙ্গে বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি চিঠি আমাদের সামনে এসেছিল, যেখানে তিনি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার বিষয়ে সুপারিশ করেছিলেন। একজন সাংসদ হয়ে তিনি বিধায়কের বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেন না, বিধানসভার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাঁর কথা বলার কোনো এক্তিয়ার নেই। এই প্রেক্ষিতেই সিআইডি তাঁকে ডেকেছে।”
অভিষেকের সিআইডি-তে হাজিরা দেওয়া নিয়ে সংশয়ের অবকাশ থাকলেও অগ্নিমিত্রার হুঙ্কার ছিল স্পষ্ট। মন্ত্রী বলেন, “তিনি যদি মনে করেন যে তিনি তাঁর শিষ্য পুষ্পার মতো পালিয়ে বেড়াবেন, তবে ভুল করছেন। গতকাল পুষ্পাকে নেপাল সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এত সাহস, এত বাঘের বাচ্চা যারা দাবি করেন, তারা কেন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন? যুবরাজ অভিষেককেও বলব, না এলে যে পার পেয়ে যাবেন তা কিন্তু নয়।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সই জালকাণ্ডে নাম জড়িয়ে পড়েছিল পুষ্পা নামে এক ব্যক্তির। নেপাল বর্ডার থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করার পরেই শাসকদলের অন্দরে আতঙ্ক বেড়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই অগ্নিমিত্রা পাল দাবি করেন, আইন কাউকে ক্ষমা করবে না। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “যদি সই জাল করার সঙ্গে আপনার নাম যুক্ত থাকে, কিংবা ওই বিতর্কিত চিঠিটি আপনি করে থাকেন, তবে কেন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন—তা সিআইডিকে আপনাকে জানাতেই হবে। লুকোচুরি করে পার পাওয়া যাবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, সিআইডি তলব এবং অগ্নিমিত্রা পালের এই মন্তব্য আগামী দিনে শাসকদল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র করবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি শেষপর্যন্ত সিআইডি অফিসে হাজিরা দেবেন, নাকি বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই আরও জটিল হবে, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যের নজর সিআইডির ওপর। তবে অগ্নিমিত্রার এই কড়া ভাষা প্রমাণ করে দিল, রাজ্য রাজনীতিতে সই জালকাণ্ড এখন নতুন করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শাসকদলের জন্য।





