তৃণমূল ভাঙন চূড়ান্ত! লোকসভায় এনডিএ-র দিকে ঝুঁকলেন ২০ বিদ্রোহী সাংসদ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার পর এবার লোকসভাতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের ভাঙনের মুখোমুখি। সোমবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সংসদ সদস্য স্পিকার ওম বিড়লার দপ্তরে চিঠি দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলাদা বসার আবেদন জানিয়েছেন। এই বিদ্রোহীরা বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারের প্রতি সমর্থন ও শরিক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

মূল ঘটনাপ্রবাহ:

  • নেতৃত্বের পরিবর্তন: বিদ্রোহী এই ২০ জন সাংসদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বারাসাতের সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এই দলে শতাব্দী রায় সহ একাধিক তারকা সাংসদ এবং হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন।

  • বিধানসভার পর লোকসভা: গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা বিরোধী গোষ্ঠী তৈরি করেছিলেন। সেই একই ‘মডেল’ অনুসরণ করে এবার সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরল।

  • দলত্যাগ বিরোধী আইন: দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তৃণমূলের লোকসভায় বর্তমান সদস্য সংখ্যা ২৮ (এক সাংসদের মৃত্যুসহ)। নিয়ম অনুযায়ী, ভাঙন বৈধ রাখতে অন্তত ১৯ জন সাংসদের প্রয়োজন ছিল, যেখানে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় আইনি জটিলতা অনেকটাই কেটে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • দিল্লিতে মমতার উপস্থিতি: সোমবার দিল্লিতে যখন ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে, ঠিক সেই সময়েই এই ভাঙনের খবর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আরজি কর-কাণ্ড এবং বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা এই ভাঙনকে ত্বরান্বিত করেছে। রাজ্য রাজনীতিতে ‘অনুগত বিরোধী পক্ষ’ তৈরির পর এবার জাতীয় রাজনীতিতেও তৃণমূলের প্রভাব খর্ব করতে বিজেপি এই কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy