“দিল্লিতে ভাঙন, কলকাতায় জল্পনা!”-ঋতব্রতর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে ফিরহাদ হাকিম

দিল্লিতে লোকসভার অন্দরে তৃণমূল সংসদীয় দলের বিদ্রোহ যখন চরমে, ঠিক তখনই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অন্দরে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা। সোমবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী নেতা ফিরহাদ হাকিমের দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

কী জানা যাচ্ছে এই বৈঠক নিয়ে? সোমবার বিধানসভার লবিতে ফিরহাদ হাকিম ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই একান্ত বৈঠকটি ছিল বেশ দীর্ঘ। সূত্রের খবর, ফিরহাদের সঙ্গে বিধানসভায় আলাদা করে বৈঠক করেছেন মন্ত্রী তাপস রায়ও। বৈঠকের পর বেরোনোর সময় সাংবাদিকরা ফিরহাদ হাকিমকে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তবে এই ‘নো কমেন্ট প্লিজ’ মন্তব্যের নেপথ্যে থাকা রহস্যই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে।

কী বলছেন ঋতব্রত? ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে রাখঢাক রাখেননি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ববিদার সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে ফিরহাদ হাকিম বা শামিম আহমেদ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন, এটুকুই বলব। বাকিটা কী হবে, তা সময় এলেই দেখতে পাবেন।”

ফিরহাদ হাকিম কি তবে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেলেও ঋতব্রত বলেন, “এই মুহূর্তে এ নিয়ে মন্তব্য করব না।” তবে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাঁদের নতুন ব্লকের সদস্য সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর আগে ৬০ জন বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে দাবি ঋতব্রতর।

কেন ফিরহাদকে নিয়ে জল্পনা? গত সপ্তাহেই কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। সোমবার কালো গাড়ির কাচ তুলে বিধানসভায় ঢোকা এবং সাংবাদিকদের এড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা সেই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

দিল্লিতে যখন তৃণমূল সংসদীয় দল ভাঙনের মুখে এবং ২০ জন সাংসদ এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে কলকাতায় ফিরহাদ হাকিমের এই তৎপরতা মমতার জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে কি তবে বড় কোনো ‘খেলা’ হতে চলেছে? বাংলার শাসকদলের বর্তমান পরিস্থিতি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy