ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে টাকার পাহাড়! মাসিক ৬ হাজারের চাকরি থেকে কোটিপতির উত্থান, ওড়িশায় শোরগোল

সরকারি চাকরির বেতন ৬ হাজার টাকা থেকে শুরু, আর আজ অঢেল সম্পত্তির মালিক! ওড়িশার কন্ধমাল জেলার বালিগুডা আইটিডিএ (ITDA)-তে কর্মরত অ্যাসিস্ট্যান্ট এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বৈকুণ্ঠনাথ বেহেরার বাসভবনে হানা দিয়ে চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, একাধিক বহুতল ভবন এবং সোনাদানা উদ্ধার হওয়ায় তোলপাড় পড়েছে প্রশাসনিক মহলে।

কীভাবে ফাঁসলেন ইঞ্জিনিয়ার? দীর্ঘদিন ধরে বৈকুণ্ঠনাথ বেহেরার বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল সম্পত্তি গড়ার অভিযোগ উঠছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ওড়িশা ভিজিল্যান্স বিভাগ শনিবার তাঁর ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর, যাজপুর এবং বালিগুডাসহ মোট ৯টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালায়। দীর্ঘদিনের তদন্ত ও নজরদারির পর এই সাফল্য পায় ভিজিল্যান্স।

কী কী সম্পদ উদ্ধার হয়েছে? তদন্তকারী অফিসারদের দাবি অনুযায়ী, তল্লাশিতে যে পরিমাণ সম্পত্তির হদিস মিলেছে, তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো:

  • নগদ অর্থ: বাড়ি ও ব্যাংক লকার থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ২.৪ কোটি টাকা।

  • স্থাবর সম্পত্তি: ভুবনেশ্বর ও তার আশেপাশে রয়েছে ১৩-১৪টি দামি জমি এবং ৫টি বিলাসবহুল বহুতল ভবন।

  • সোনার গয়না: ৩৪১ গ্রাম সোনার অলঙ্কার উদ্ধার হয়েছে।

  • ব্যাংক আমানত: ৪৫ লক্ষাধিক টাকার ব্যাংক ডিটেইলস সামনে এসেছে। উল্লেখ্য, বহুতল ভবনগুলোর সঠিক বাজারমূল্য নির্ধারণের কাজ এখনও চলছে, যা চূড়ান্ত হিসেবে আরও অনেক বেশি হতে পারে।

কর্মজীবনের গ্রাফ: ভিজিল্যান্স সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৯ সালে নবরঙ্গপুর ব্লকে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন বেহেরা। তখন তাঁর মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৬,০০০ টাকা। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কাজ করে দীর্ঘ ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি যে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, তার সঙ্গে তাঁর বৈধ আয়ের কোনো সামঞ্জস্য নেই বলে অভিযোগ।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: ভিজিল্যান্সের সেল ডিভিশনের এসপি সুশান্ত কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, তল্লাশি ও তল্লাশ অভিযান এখনও চলছে। ইঞ্জিনিয়ারের সমস্ত আর্থিক বিনিয়োগ এবং সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।