জাতীয় রাজনীতির উত্তাল সমীকরণের মাঝে আজ, রবিবার দিল্লি পাড়ি দিচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা, অন্যদিকে সংসদীয় দলে ভাঙনের তীব্র জল্পনা—সব মিলিয়ে এক অত্যন্ত সংকটজনক মুহূর্তে দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী। আগামীকাল, ৮ জুন ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিক দলগুলির সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই বৈঠকের আগে পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবারই তড়িঘড়ি দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভা নির্বাচনের বিপর্যয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন রাহুল গান্ধি এবং অখিলেশ যাদবের মতো নেতারা। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এমনকি কলকাতায় এসে মমতার সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। তবে সেই সংহতির বার্তা এখন ফিকে হতে শুরু করেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ সাংসদ জোটের বৈঠকের দিনেই কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দিল্লিতে উপস্থিতি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ভাঙন রুখতে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর এম কে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে (DMK) স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা আর এই জোটের সঙ্গে নেই। এমনকি ৮ জুনের বৈঠকেও তারা অনুপস্থিত থাকবে। অন্যদিকে, আসন সমঝোতা নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে আম আদমি পার্টিও (AAP) জোট থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে। যে জোটকে একসময় বিজেপি বিরোধী প্রধান শক্তি হিসেবে কল্পনা করা হয়েছিল, তা এখন ক্রমশ আঞ্চলিক খণ্ডে বিভক্ত হয়ে পড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই ভগ্নদশায় মূল কারণ হলো সর্বজনগ্রাহ্য কোনো শক্তিশালী নেতার অভাব এবং সুসংহত আদর্শগত ভিত্তির অনুপস্থিতি। একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় রাজনৈতিক বয়ানের বদলে প্রতিটি দল এখন তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় বেশি তৎপর। বিশেষ করে কংগ্রেসের দুর্বলতাকে পুঁজি করে আঞ্চলিক নেতারা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বিসর্জন দিতে নারাজ। তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙনের সুর এবং বিরোধী জোটের এই কাঠামোগত দুর্বলতা আসন্ন জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা ও প্রভাবের ওপর বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। এখন দেখার, আগামীকালকের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোটকে রক্ষা করতে এবং দলের অন্দরে ছড়িয়ে থাকা বিদ্রোহের আগুন নেভাতে কতটা সফল হন।





