জেলার রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই চর্চা—ইংরেজবাজার পুরসভায় কি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ‘মূষলপর্ব’ শুরু হতে চলেছে? পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আসার গুঞ্জন এখন মালদার রাজনৈতিক হাওয়ায় রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিরোধী দলের চেয়েও বেশি, দলের অন্দরের ক্ষোভকেই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন অনেকে।
পুরসভার অন্দরের পরিস্থিতি: শহরজুড়ে এখন জোর গুঞ্জন, পুরসভার বেশ কিছু তৃণমূল কাউন্সিলর চেয়ারম্যানের কার্যকলাপে অসন্তুষ্ট। অভিযোগ উঠছে, কাজের সমন্বয়হীনতা এবং ব্যক্তিগত আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় দলের একাংশ ক্ষুব্ধ। সেই ক্ষোভ থেকেই নাকি অনাস্থা প্রস্তাব আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তবে এই পুরো বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী।
চেয়ারম্যানের সাফাই: পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী অবশ্য এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছেন, “এসব বিরোধীদের চক্রান্ত এবং রটনা ছাড়া আর কিছুই নয়। পুরসভার কাজে দলের সবাই একজোট হয়েই কাজ করছি।” চেয়ারম্যানের দাবি, পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ধরণের মিথ্যে প্রচার চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যেভাবে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় সাম্প্রতিককালে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অনাস্থার ছবি দেখা গেছে, তাতে ইংরেজবাজারের পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, মালদার রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর তারা যে কড়া নজর রাখছেন, তা বলাই বাহুল্য।
ইংরেজবাজার পুরসভার অন্দরে কি সত্যিই ফাটল ধরছে, নাকি এটি নিছকই রাজনৈতিক গুজব? আগামী কয়েকটা দিনই স্পষ্ট করবে তিলোত্তমার এই পুরসভার ভাগ্য।





