ঝাড়খণ্ডের রাজ্য রাজনীতিতে আসন সমঝোতা নিয়ে তৈরি হওয়া প্রবল উত্তাপের অবসান ঘটল। মহাজোটের ঐক্যের খাতিরে শেষ মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। রাজ্যসভার দুটি আসনের উপনির্বাচনে প্রথমে দুটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার জল্পনা চললেও, শনিবার দল এক আসনেই প্রার্থী ঘোষণা করে জোটের অটুট সংহতির বার্তা দিল।
হেমন্তের কৌশলী সিদ্ধান্ত: শনিবার রাঁচিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM)-এর মুখপাত্র সুপ্রিয় ভট্টাচার্য দলের একমাত্র প্রার্থী হিসেবে বৈদ্যনাথ রামের নাম ঘোষণা করেন। লাতেহারের বিধায়ক বৈদ্যনাথ রাম একজন পোড় খাওয়া নেতা এবং আদিবাসী ও অনগ্রসর সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। আগামী ৮ জুন তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
কেন এই সংঘাত ও সমঝোতা? ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত শুক্রবার। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত বৈঠকে জেএমএম নেতাদের মধ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া রাজ্যসভার আসন বণ্টন নিয়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা একসময় জোট ভাঙার উপক্রম করেছিল। কিন্তু খাড়গে-রাহুলদের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেওয়া সেই পরিস্থিতি সামলাতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ‘জোট ধর্ম’ পালন করেন। তিনি দুটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার জেদ থেকে সরে এসে শুধুমাত্র একটি আসনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
কংগ্রেস শিবিরে স্বস্তি: জেএমএম-এর এই নমনীয় মনোভাবে স্বাভাবিকভাবেই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের এই উপনির্বাচন জোটের ক্ষমতার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছিল। হেমন্ত সোরেনের এই সিদ্ধান্তের ফলে কংগ্রেসের প্রার্থী পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো এবং ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের অন্দরের ফাটল আপাতত মেরামত হলো।
ঝাড়খণ্ডের এই রাজনৈতিক সমীকরণ আসন্ন দিনগুলিতে জোটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





