রাজ্যে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের থমকে থাকা একাধিক রেল প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আর সেখানেই জমি জট কাটাতে জেলাশাসকদের জন্য বেঁধে দেওয়া হলো কড়া সময়সীমা।
জমি জট কাটাতে ১ মাসের সময়সীমা বৈঠকে রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ৭ জুলাইয়ের মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত রেল প্রকল্পের জমি জট কাটিয়ে তা রেলের হাতে হস্তান্তর করতে হবে। অর্থাৎ, হাতে সময় মাত্র এক মাস। কেন এত দিন ধরে এই প্রকল্পগুলো থমকে ছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলাশাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এতদিন জমি সমস্যা নিয়ে আপনারা কী পদক্ষেপ করেছিলেন?”
অতীতের ব্যর্থতায় রেলমন্ত্রীর নিশানা এদিনের বৈঠকে তৃণমূল সরকারের আমলের রেল নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজ্যের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছিল। রেলমন্ত্রী বলেন, “ইউপিএ সরকার যেখানে মাত্র ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল, সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি বাংলার রেলের উন্নয়নে ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আগের সরকার কাজের অনুমতিই দেয়নি। এমনকি প্রকল্পগুলো নিয়ে আদালতে পর্যন্ত যাওয়া হয়েছিল।”
উন্নয়নের জোয়ারে নতুন আশা রাজ্যের যে প্রান্তগুলোতে এখনও রেল পরিষেবা পৌঁছায়নি, সেখানে দ্রুত লাইন বিস্তারের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী দুজনেই। অশ্বিনী বৈষ্ণব উন্নয়নের এই যাত্রায় রাজ্যবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তার পর, প্রশাসনিক স্তরে এখন জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠক রাজ্যের দীর্ঘদিনের রেল সমস্যা সমাধানের পথে বড় মোড় হতে চলেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৭ জুলাইয়ের ডেডলাইনের মধ্যে জেলা প্রশাসন কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।





