বিশ্ববাজারে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বড় ঘোষণা করল পাকিস্তান সরকার। প্রতি সপ্তাহের মতো শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের মূল্য পর্যালোচনার পর, দেশটিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৪ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের পণ্য পরিবহনের প্রধান জ্বালানি ‘হাই-স্পিড ডিজেল’-এর দাম এই দফায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
নতুন দাম কত? সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (৬ জুন) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দাম অনুযায়ী, পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ৩৮১.৭৮ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭৭.৭৮ টাকা। অন্যদিকে, হাই-স্পিড ডিজেলের দাম আগের মতোই প্রতি লিটারে ৩৮০.৭৮ টাকা বহাল রাখা হয়েছে। আগামী ১২ জুন পর্যন্ত এই নতুন দর কার্যকর থাকবে।
টানা চার সপ্তাহে বড় স্বস্তি পাকিস্তান সরকার চলতি মাসে পেট্রোলের দামে টানা চতুর্থবার ছাড় দিয়েছে। গত চার সপ্তাহের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে পেট্রোলের দাম কমেছে প্রায় ৩৭ টাকা। পেট্রোল মূলত ব্যক্তিগত ছোট গাড়ি, বাইক এবং রিকশায় বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই মূল্য হ্রাসে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। যদিও বর্তমানে পেট্রোলের ওপর বিভিন্ন লেভি ও শুল্ক মিলিয়ে লিটার প্রতি ১২৫ টাকা পর্যন্ত কর ধার্য রয়েছে, যা দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
ডিজেল কেন স্থিতিশীল? পণ্য পরিবহনের মূল মাধ্যম হওয়ায় ডিজেলকে মুদ্রাস্ফীতির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়। গত ১০ এপ্রিল পাকিস্তানে ডিজেলের দাম রেকর্ড ৫২০.৩৫ টাকায় পৌঁছেছিল। সেখান থেকে বর্তমান দাম প্রায় ১৪০ টাকা কম হলেও, সরকার আপাতত ডিজেলের দাম কমানোর ঝুঁকি নেয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতাই জ্বালানি মূল্য নির্ধারণে পাকিস্তানের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র পেট্রোল ও ডিজেল নয়, কেরোসিন এবং লাইট ডিজেল অয়েলের ওপরেও সরকার নির্ধারিত হারে পেট্রোলিয়াম লেভি ও কর আদায় অব্যাহত রেখেছে। প্রতিবেশী দেশটির এমন লাগাতার জ্বালানি নীতি এখন আন্তর্জাতিক মহলেও বেশ চর্চার বিষয়।





