চলতি অর্থবর্ষে ভারতের অর্থনৈতিক গতি বেশ আশাব্যঞ্জক হলেও, আগামী অর্থবর্ষ অর্থাৎ ২০২৭ সাল ভারতের অর্থনীতির জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিল ব্রোকারেজ সংস্থা ‘নুভামা ইনস্টিটিউশনাল ইক্যুইটিস’। বিশেষ করে ইরানের তেল সংকট এবং ভারতে দুর্বল বর্ষার সম্ভাবনা—এই জোড়া বিপদ ভারতের অর্থনীতিতে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ (Stagflation)-এর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
স্ট্যাগফ্লেশন কী? সহজ কথায়, স্ট্যাগফ্লেশন হলো এমন এক পরিস্থিতি যখন দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে যায় (অর্থাৎ রোজগার ও উৎপাদন হ্রাস পায়), কিন্তু একই সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বা মুদ্রাস্ফীতি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর এটি সবথেকে বড় আঘাত।
কেন এই আশঙ্কার কথা বলছে নুভামা? ১. তেলের দাম: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ইরান থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যে। ২. দুর্বল বর্ষা: কৃষিপ্রধান ভারতে বর্ষার ওপর নির্ভরতা অপরিসীম। বর্ষা দুর্বল হলে কৃষিপণ্য উৎপাদন কমবে, যার ফলে বাজারে খাদ্যের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। ৩. জিডিপি পূর্বাভাসে কাটছাঁট: যদিও অর্থবর্ষ ২০২৬-এ ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.৭% পর্যন্ত পৌঁছেছিল, তবে নতুন পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে নুভামা ২০২৭ সালের জন্য আসল জিডিপি (Real GDP) বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৬-৬.৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
আশার আলো কোথায়? এত ঝামেলার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছে রিপোর্টটি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিচক্ষণ মুদ্রানীতি, ভারতীয় টাকার বর্তমান অবস্থা এবং বাজারে ঋণের চাহিদা বা ক্রেডিট গ্রোথ ভালো থাকার ফলে অর্থনীতি কিছুটা হলেও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২৬-এর চতুর্থ ত্রৈমাসিকে বিনিয়োগের হার (GFCF) ১০.৮% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় অর্থনীতি কিছুটা মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে।





