দেশে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি বা E85 পেট্রোল চালুর ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ গাড়ি মালিকদের মধ্যে এক তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন—নতুন এই জ্বালানি বাজারে এলে কি পুরনো গাড়িগুলো বাতিল হয়ে যাবে? এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক।
পুরনো গাড়ির ভবিষ্যৎ কী? কেন্দ্রের স্পষ্ট বার্তা: E85 জ্বালানি এলেও পুরনো গাড়ি রাতারাতি বাতিল হচ্ছে না। সরকার জানিয়েছে, এই নতুন জ্বালানি মূলত নমনীয় জ্বালানি বা ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ (Flex-Fuel) ইঞ্জিন বিশিষ্ট গাড়িগুলোর জন্য তৈরি। আপনার বর্তমান পেট্রোল গাড়িটি বাতিল করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। গাড়িটির ফিটনেস এবং নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী মেনে চললে সেটি রাস্তায় অনায়াসেই চলতে পারবে।
ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিন কী? সহজ কথায়, যে গাড়িগুলো ইথানল এবং পেট্রোলের মিশ্রণে (ইথানলের মাত্রা ২০% থেকে ৮৫% পর্যন্ত) চলতে সক্ষম, তাদেরই বলা হয় ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিন গাড়ি। সাধারণ পেট্রোল ইঞ্জিনের গাড়িতে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের পাইপ বা সিলিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই পুরনো গাড়িতে এই উচ্চ মাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে:
বাধ্যতামূলক নয়: E85 বা উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি সাধারণ গাড়িতে বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
সতর্কতা: সাধারণ গাড়িতে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়তে পারে, তাই চালকদের সতর্ক করা হয়েছে।
ধাপে ধাপে পরিবর্তন: ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিন সমৃদ্ধ গাড়িগুলোর প্রচার ও ব্যবহার বাড়াতে সরকার অটোমোবাইল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে।
আপনার করণীয় কী? আপাতত নিজের পুরনো গাড়ি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। শুধুমাত্র জ্বালানি স্টেশনে যাওয়ার সময় দেখে নিতে হবে, সেই পেট্রোল পাম্পে কী ধরনের জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে এবং আপনার গাড়ির ইঞ্জিনের সক্ষমতা কতটুকু। সরকার শুধুমাত্র দেশের পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমাতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সুতরাং, আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলুন এবং গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করুন।





