তৃণমূল নেতা তথা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও জনপ্রিয় ক্লাব ‘সুরুচি সংঘ’। সেই ক্লাবের তালা ভাঙতেই চোখ কপালে ওঠার মতো দৃশ্য সামনে এল! ক্লাবের অন্দরে রীতিমতো ‘৫ স্টার’ মানের বেডরুম থেকে শুরু করে ক্লাবের পিছনের দিকে থাকা গোয়াল ঘর—সবই এখন তদন্তকারীদের নজরে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্লাবের ভেতরে এমন পরিকাঠামো গড়ে তোলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
কী কী মিলেছে অন্দরমহলে? পুলিশি তল্লাশি ও তালা খোলার পর যে চিত্র উঠে এসেছে, তা ক্লাবের সাধারণ ধারণার বাইরে। ক্লাবের একটি অংশে তৈরি করা হয়েছে সুসজ্জিত বেডরুম, যার আসবাবপত্র ও অন্দরসজ্জা দেখে মনে হতে পারে কোনো বিলাসবহুল হোটেলের স্যুট। বিছানা থেকে শুরু করে আধুনিক বাথরুম—সবই যেন আয়েশি জীবনযাত্রার পরিচয় দেয়। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই ক্লাবের পিছনের দিকে একটি গোয়াল ঘরও উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে: সুরুচি সংঘের মতো নামী ক্লাবের অন্দরে এই ধরণের নির্মাণের অনুমতি কে দিল? সাধারণ মানুষের ক্রীড়া চর্চার জন্য তৈরি ক্লাবে ব্যক্তিগত বেডরুম বা গোয়াল ঘরের প্রয়োজনীয়তা কী? স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ক্লাবের আড়ালে এখানে দিনের পর দিন ব্যক্তিগত বিলাসিতা ও বেআইনি কার্যকলাপ চালানো হতো। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই এই জবরদখল ও নির্মাণ কাজ চালানো হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের।
তদন্ত ও বিতর্ক: অরূপ বিশ্বাসের সাথে এই ক্লাবের নাম জড়িয়ে থাকায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। পুলিশ এবং প্রশাসন এই বিপুল পরিমাণ আসবাবপত্র ও ক্লাবের ভেতরে এই ধরণের পরিকাঠামো তৈরির উৎস কী, তা খতিয়ে দেখছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ বা মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তরফ থেকে এখনও এই বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
এই অভিযানের পর সুরুচি সংঘের অন্দরের ‘গোপন সাম্রাজ্য’ এখন রাজ্য রাজনীতির চর্চার কেন্দ্রে। এর পেছনে কোনো বড় দুর্নীতির যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে।





