প্রাক্তন বিধায়কের ঘনিষ্ঠ ‘দাপুটে’ নেতা অবশেষে জালে, কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে সতীশ সাউ

হুগলির তারকেশ্বর পুরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল নেতা সতীশ সাউয়ের গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। ধর্ষণ, তোলাবাজি এবং খুনের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ৩৪ বছর বয়সী এই নেতাকে বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার তিলজলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে তারকেশ্বর থানার পুলিশ। শাসক দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা এই নেতার গ্রেফতারি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় রাজনীতিতে বড়সড় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

অভিযোগ, তারকেশ্বরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য চালাতেন সতীশ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও ভয় দেখানোর একের পর এক অভিযোগ জমা পড়েছিল। কিন্তু শাসক দলের নেতা হওয়ায় এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পাননি সাধারণ মানুষ। তবে এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পরপরই এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সতীশ। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করলে বৃহস্পতিবার রাতে তিলজলা থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়।

শুক্রবার সকালে সতীশ সাউকে চন্দননগর আদালতে পেশ করার সময় এক অস্বস্তিকর চিত্র দেখা যায়। কোমরে দড়ি বাঁধা অবস্থায় তাঁকে থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সাংবাদিকরা তাঁকে অভিযোগ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।

অন্যদিকে, এই গ্রেফতারির ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরমহলে অস্বস্তি স্পষ্ট। প্রাক্তন বিধায়ক রামেন্দু সিংহ সতীশের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা সরাসরি স্বীকার না করে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রেফতারির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না এবং তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করছেন।

ঘটনায় তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক পর্ণা আদক বলেন, “এতদিন কোন ক্ষমতার জোরে তিনি এত সম্পত্তির মালিক হলেন, তা তদন্ত করে দেখা উচিত। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এতদিন কেন তিনি বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে শুরু করেছে, তারই ফল এই গ্রেফতারি।”

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ কিছু জানানো না হলেও, হুগলি গ্রামীণ পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন যে, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ও একাধিক গুরুতর মামলার ভিত্তিতেই সতীশ সাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আপাতত অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তারকেশ্বরের এই ঘটনা আগামী দিনে তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠনের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy