ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর! ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে গ্রেফতার করল রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ। শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন বারের এই দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলরকে। এক মহিলার করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি তল্লাশির পর তাঁকে পাকড়াও করা হয়, যা নিয়ে শহরজুড়ে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, অভিযোগকারী ওই মহিলা রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মহিলার দাবি, গত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এবং সম্প্রতি গত ৯ মে—এই দুবার কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডল তাঁর শ্লীলতাহানি করেন। শুধু তাই নয়, কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা প্রয়োগ এবং ওই মহিলাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই পুলিশ একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করে এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করা হয়।

তিন বারের কাউন্সিলর হিসেবে পরিচিত বিশ্বজিৎ মণ্ডল এলাকায় যথেষ্ট প্রভাবপরায়ন। তাঁর বিরুদ্ধে এই ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন কার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলেন কাউন্সিলর। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।

পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ওই মহিলা তাঁর অভিযোগে জানিয়েছেন যে, কাউন্সিলর নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাঁকে দীর্ঘ দিন ধরে উত্যক্ত করছিলেন। ৯ মে-র ঘটনাটি ছিল চরম পর্যায়ের, যার পরেই মহিলা পুলিশের দারস্থ হতে বাধ্য হন। রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ অভিযুক্তকে আজ আদালতে পেশ করবে বলে সূত্রের খবর। ওই মহিলার নিরাপত্তার দিকেও পুলিশ বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে।

এই গ্রেফতারির পর থেকেই ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে যেমন কাউন্সিলরের অনুগামীরা এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষজন কাউন্সিলরের এই আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গত কয়েকদিনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তৃণমূল নেতা-কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে, যা রাজ্যের শাসকদলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই মামলাটি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে। অভিযুক্ত কাউন্সিলর জামিন পান নাকি তাঁকে দীর্ঘ দিন হাজতে থাকতে হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে শহরবাসী। পাশাপাশি, অভিযোগকারিণী মহিলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি তৎপরতাও তুঙ্গে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিশ্বজিৎ মণ্ডলের এই ধরনের আচরণের বিষয়ে আগে থেকেই পুলিশের কাছে একাধিক গোপন সূত্র থেকে তথ্য আসছিল, যার ভিত্তিতেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আপাতত রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ এই বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy